কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেকলায় ৬ বছরের এক শিশুকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত নিহা মনি ওই গ্রামের প্রবাসী শরীফ মিয়ার মেয়ে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রাসেল মিয়া (২৩) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের মোচাগড়া (পিপিয়াপাড়া) গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে শিশু নিহা মনি হঠাৎ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ির পাশের এনজিও ‘এসডিএফ’ অফিসের বাথরুমের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় একটি দেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। উদ্ধার করার পর দেখা যায় নিখোঁজ নিহা মনির নিথর দেহ।
ধারনা করা হচ্ছে ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের পর স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বখাটে রাসেল মিয়া শিশুটিকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে এবং প্রমাণ লোপাটে লাশটি ট্যাংকে ফেলে দিয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত গ্রামবাসী ঘাতক রাসেলকে আটক করে গণধোলাই দেয়। পরে খবর পেয়ে মুরাদনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে জনরোষ থেকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। আটক রাসেল একই গ্রামের নবী আলমের ছেলে।
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে নিহতের মা তানিয়া আক্তার এখন বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। আর্তনাদ করে তিনি তার সন্তানের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ফাঁসি দাবি করেন। নিহা মনির এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো মোচাগড়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মুরাদনগর থানা পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কেকে/এমএফএইচ