ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে বাধা, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সামগ্রিকভাবে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে তেঘরিয়া ইউনিয়ন বিএনপি আহ্বায়ক খোরশেদ আলম জমিদারকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলে দলীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপি সভাপতি নিপুণ রায় চৌধুরী জানায়, ‘দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দল এগিয়ে এসেছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অসহযোগিতা এবং স্থানীয়ভাবে বিতর্কিত ভূমিকার কারণে খোরশেদ জমিদারকে দলীয় সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির প্যাডে জারি করা বহিষ্কার আদেশের মাধ্যমে তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন ধরেই খোরশেদ জমিদারের বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে একাধিক অভিযোগ ছিল। তার বিরুদ্ধে সড়কে অবৈধভাবে গরুর হাট বসানো, সরকারি জমিতে দোকান স্থাপন করে চাঁদাবাজি করাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এসব অভিযোগের পরও তিনি দলীয় পদে বহাল ছিলেন, তবে সাম্প্রতিক ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দল কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার আব্দুল্লাহপুর এলাকায়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ৬ নম্বর মামলার ৩০৩ নম্বর আসামি আ. লীগ নেতা আব্দুল হামিদকে গ্রেফতারের জন্য ঢাকা জেলা দক্ষিণ ডিবির একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। এসময় খোরশেদ জমিদারের আচরণ ও উপস্থিতি নিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় এবং বিষয়টি পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপি সভাপতি নিপুণ রায় চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবুর স্বাক্ষরিত বহিষ্কার আদেশে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এই বহিষ্কারকে দলীয় শৃঙ্খলা জোরদার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দলীয় পরিচয়ের অপব্যবহার রোধে কঠোর বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কেকে/বি