রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় অটো ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালক রবিউল ইসলামকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটনসহ পুলিশ চার আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারী) বিকালে জেলা পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হুসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা হলেন নগরীর হাজীরহাট এলাকার আফসার আলীর ছেলে মিঠু মিয়া (৩০), উত্তম মাস্টারপাড়া গ্রামের হামিজ উদ্দিনের ছেলে ইসমাইল হোসেন আবির (২০), গাইবান্ধা ডেভিড কোম্পানীপাড়ার মজিবর রহমানের ছেলে নাসির মিয়া (৪৫) ও চক মমরোজপুর গ্রামের কালাম মিয়ার ছেলে লেবু মিয়া (৪০)।
মারুফাত হুসাইন জানান, গত ১৭ ডিসেম্বর গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের চৌধুরীর হাট এলাকার একটি ডোবা থেকে রবিউল ইসলামের (২৯) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রবিউল নগরীর কেরানীরহাট বখতিয়ারপুর এলাকার মোজাম্মেল হকের ছেলে। তিনি একটি বেসরকারী মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করাসহ অটোরিক্সা চালাতেন। এ ঘটনায় ১৮ ডিসেম্বর গঙ্গাচড়া মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা হলে আসামীদের গ্রেফতারে অভিযানে নামে পুলিশ।
গত ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি বিভিন্ন স্থানে একাধিক অভিযান করে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত চার আসামীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা পুলিশকে জানায়, (১৬ ডিসেম্বর) রাত ১১টার দিকে পলাতক আসামী পারভেজ মিয়াসহ অজ্ঞাতরা অটোরিক্সা ছিনতাই করার উদ্দেশ্যে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে রবিউল ইসলামকে হত্যা করে চৌধুরী হাট এলাকার একটি কালভার্টের নিচে ঢুকিয়ে রাখে। এরপর তারা ওই অটোরিক্সাটি গাইবান্ধা সদর এলাকায় নিয়ে গিয়ে আসামী লেবু মিয়ার সহায়তায় অপর আসামী নাসির মিয়ার কাছে বিক্রি করে।
পুলিশ বুধবার (১৪ জানুয়ারী) নগরীর বিসিক মোড় থেকে মিঠু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তার দেয়া তথ্য মতে, ইসমাইল হোসেন আবিরকে ওই রাতে নগরীর হাসনা বাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে (১৫ জানুয়ারি) মামলার অপর আসামী নাসির মিয়াকে গাইবান্ধার ডেভিড কোম্পানী পাড়া থেকে এবং নাসিরের দেয়া তথ্য মতে লেবু মিয়াকে গাইবান্ধা সদর ডাচ বেকারীর মোড় থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই সাথে অটোরিক্সাটি উদ্ধারসহ মামলার নানা আলামত জব্দ করা হয়।
মারুফাত হুসাইন বলেন, ‘রবিউল ইসলাম হত্যাকান্ডটি ছিল রহস্যজনক, চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস। পুলিশ আন্তরিকতা ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে দিনরাত পরিশ্রম করে চার আসামীকে গ্রেপ্তাতারসহ হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে। তদন্ত কার্যক্রম শেষে আসামীদের আদালতে নেয়া হলে বিচারক তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
কেকে/এমএফএইচ