সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      ১৫ জুলাই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ      সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে: প্রধানমন্ত্রী      দীর্ঘ হচ্ছে হামে মৃত্যুর মিছিল      ডুবল ঢাকা ভুগল মানুষ      
দেশজুড়ে
মা-মেয়েকে হত্যার পর লাশের সাথেই ঘুমাতেন শিক্ষিকার পরিবার
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:১১ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

মাত্র দেড় লক্ষ টাকার এনজিও ঋণের জামিনদার হওয়াকে কেন্দ্র করে ঢাকার কেরানীগঞ্জে মা ও মেয়ের নিখোঁজের ২১ দিন পর তাদের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ, যা লোমহর্ষক রহস্য উন্মোচন করেছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, নিহত রোকেয়া বেগমের প্রতিবেশী এবং তার মেয়ের গৃহশিক্ষিকা মীম (২২) এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সেই সুবাদে রোকেয়া গ্রান্টার (জামিনদার) হয়ে তিনটি এনজিও থেকে মীমকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ তুলে দেন। ঋণের কিস্তি ও টাকা পরিশোধের জন্য রোকেয়া চাপ দিলে তাদের মধ্যে ঝামেলা সৃষ্টি হয়। এর সূত্র ধরে মীম ও তার ছোট বোন নুর জাহান তাদের মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র চালায় এবং দুই বোন মিলে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

পুলিশ জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৫ ডিসেম্বর প্রথমে শিশু ফাতেমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর মীম ফোনে মা রোকেয়া বেগমকে জানায় তার মেয়ে অসুস্থ। খবর পেয়ে মা রোকেয়া মীমের বাসায় প্রবেশ করলে দুই বোন ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে তাকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। নৃশংসতার চরম পর্যায়ে মা ও মেয়ের লাশ খাটের নিচে লুকিয়ে রেখে সেই খাটের ওপরই রাত যাপন করেন মীম।

পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ড আড়াল করতে ঘাতক দুই বোন চাতুর্যের আশ্রয় নেয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় ফাতেমা ওই বাড়িতে প্রবেশ করছে। কিন্তু হত্যার পর মানুষের নজর এড়াতে মীমের ছোট বোন নুর জাহান ফাতেমার জামা পরে বাসা থেকে বের হয়, যাতে সবাই মনে করে ফাতেমা সুস্থ অবস্থায় চলে গেছে।

উল্লেখ্য, ২৫ ডিসেম্বর মা ও মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর ২৭ ডিসেম্বর থানায় জিডি এবং পরবর্তীতে ৬ জানুয়ারি অপহরণ মামলা দায়ের করেন রোকেয়ার স্বামী শাহীন। দীর্ঘ ২১ দিন পর গেল বৃহস্পতিবার কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকার ওই শিক্ষিকার বাসা থেকে মা ও মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় মীম ও নুর জাহানসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত দুই বোনকে আজ দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, দুই বোন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। বড় বোন মীমকে জেল হাজতে এবং ছোট বোন নুর জাহানকে গাজীপুরের কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  মা-মেয়ে   হত্যা   পরিবার  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close