মাদারীপুরে দাম্পত্য কলহের জেরে ঘুমন্ত অবস্থায় ইতালি প্রবাসী স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ভোররাত ৪টার দিকে মাদারীপুর সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের দিয়াপাড়া এলাকার মাতুব্বর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্ত্রীর দাবি, পরকীয়া নিয়ে ঝগড়ার জেরে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। ভুক্তভোগী মো. হাবিব মাতুব্বর (৩২) একই এলাকার মৃত রশিদ মাতুব্বরের ছেলে। এ ঘটনায় তার অভিযুক্ত স্ত্রী শিউলি বেগমকে (২৮) আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে হাবিব মাতুব্বর ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠকও হয়েছে, কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
শুক্রবার রাতে আবারও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ভোররাত ৪টার দিকে ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ ব্লেড দিয়ে কেটে দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে স্ত্রী শিউলি বেগমের বিরুদ্ধে। এসময় তার চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় হাবিবকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিউলিকে আটক করে পুলিশ। একই সঙ্গে ব্লেডটিও উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগী হাবিব মাতুব্বরের চাচাতো ভাই হৃদয় মাতুব্বর জানান, রাতের খাবার খেয়ে তারা ঘুমিয়ে পড়ে। পরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে শিউলি বেগম ব্লেড দিয়ে তার ভাইয়ের পুরুষাঙ্গ কেটে দেন। চিৎকার শুনে তারা এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন।
অভিযুক্ত শিউলি বেগম জানিয়েছেন, তার স্বামী পরকীয়ায় আসক্ত ছিলেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে মোবাইলে কথা বলতেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় স্বামীর খারাপ আচরণের কারণে ক্ষোভের বশেই তিনি এ কাজ করেছেন।
এদিকে পরকীয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে হাবিব মাতুব্বর বলেছেন, কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা তিনি জানেন না। এ ঘটনায় তিনি মামলা করবেন।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত স্ত্রী শিউলি বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। তবে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুনেছি, দ্বিতীয় বিয়ে করায় এই ঘটনা ঘটেছে।”
কেকে/এলেএ