ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনকে ঘিরে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন এক কর্মী। এ ঘটনায় মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নিহতের সহকর্মী ও নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ধোবাউড়া উপজেলার এরশাদ বাজারে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত নজরুল ইসলাম (৪৬) রামসিংহপুর এলাকার হাজী মফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের কর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এরশাদ বাজারে সালমান ওমরের নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা নজরুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলে তিনি মারা যান।
ঘটনার পর শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ ধোবাউড়ায় নিয়ে আসা হয়। মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে নিহতের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে নিহতের ছেলে মো. সোলাইমান বাবার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. সোলাইমান বাদী হয়ে শনিবার ভোরে ধোবাউড়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে ৩৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২২ জনকে আসামি করা হয়। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন মো. আদম আলী (৫৪), মো. দুলাল মিয়া (৫৩) এবং মো. ইব্রাহিম (৫২)। গ্রেপ্তারদের শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ধোবাউড়া থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম জানান, নির্বাচনী সহিংসতায় নিহতের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
কেকে/এমএফ