মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
শালিখায় বাড়ছে বিবাহ বিচ্ছেদ, প্রতিমাসে গড়ে প্রায় অর্ধশত
শালিখা (মাগুরা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৪৯ পিএম
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

মাগুরার শালিখায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা। সামাজিক অস্থিরতা, ব্যক্তিগত স্বার্থপরতা, উচ্চবিলাসিতা, বনিবনা না হওয়া, পরকীয়া, ভুল বুঝাবুঝি, মতভেদসহ নানা কারণে ভেঙে যাচ্ছে দাম্পত্য সম্পর্ক। পরিসমাপ্তি ঘটছে দাম্পত্য জীবনের পাশাপাশি হচ্ছে সামাজিক অবক্ষয়। বিচ্ছেদ পরবর্তী সময়ে পুরুষ-মহিলার তেমন সমস্যা না হলেও অনাদর ও অবহেলার শিকার হচ্ছেন ছেলে-মেয়েরা। 

শালিখা উপজেলার মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রারদের দেওয়া এক পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, নারীদের তরফ থেকেই দেওয়া হচ্ছে অধিকাংশ তালাকের নোটিশ, যাদের বয়স ২০-৩০ এর মধ্যে।

শালিখা উপজেলার মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রারদের দেওয়া এক পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, নারীদের তরফ থেকেই দেওয়া হচ্ছে অধিকাংশ তালাকের নোটিশ, যাদের বয়স ২০-৩৫ এর মধ্যে। গত বছরের (২০২৫) জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্থাৎ গত এক বছরে তালখড়ি-১৪৪, শতখালী -১২২, গঙ্গারামপুর- ২৪, আড়পাড়া- ১০৪, বুনাগাতী-৬৪,  শালিখা- ৭৯, ধনেস্বরগাতী- ৪৪সহ সাত ইউনিয়নে ৫৮১ টি বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে যেখানে ১ হাজার ৪২ টি বিবাহ বা নিকাহ সম্পন্ন হয়েছিল। যা গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে উপজেলার সাত ইউনিয়নে ৫১১ টি তালাকের ঘটনা ঘটেছিল যেখানে  ৮৫২ টি বিবাহ বা নিকাহ সম্পন্ন হয়েছিল।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৫ সালে প্রতি মাসে গড়ে ৪৮ টি বিবাহে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। যেখানে ছেলে পক্ষ থেকে তালাক হয়েছে ৩৮টি, উভয় পক্ষ মিলে মিউচুয়াল বা সি তালাক হয়েছে ১৯৩টি এবং মেয়ে পক্ষ থেকে ডিভোর্স বা ডি তালাক হয়েছে ৩৪৮টি যা ছেলে পক্ষের চেয়ে নয় গুণের বেশি। ২০২৪ সালের চেয়ে ২০২৫ সালে তালাকের পার্থক্য কম তা ২০২৩ সালের তুলনায় বিচ্ছেদের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। বিচ্ছেদে এগিয়ে রয়েছে তালখড়ি পিছিয়ে গঙ্গারামপুর ইউনিয়ন।

শালিখায় বিবাহ বিচ্ছেদের ফলে স্বামী-স্ত্রী পৃথক থাকছেন। বাড়ছে মানসিক সংকট। ফলে সন্তানরা অনাদর, অবহেলার শিকার হচ্ছে। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তাদের শৈশব। ভেঙে যাচ্ছে পারিবারিক বন্ধন। বিরূপ প্রভাব পড়ছে সমাজে। তালাকের ঘটনাগুলোর কারণ সব একই রকম।

শালিখার উপজেলা সদর আড়পাড়া ইউনিয়নের মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার রোকনুজ্জামান বলেন, অধিকাংশ বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ পরকীয়া সম্পর্ক। এছাড়া পরিবারে বনিবনার অভাব, স্বামীর দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা, সামাজিক অবক্ষয়সহ নানা কারণে ঘটছে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা।

শালিখা উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের পুকুরিয়া গ্রামে সম্প্রতি স্বামীকে তালাক দিয়েছেন ছন্দ খাতুন (ছন্মনাম)। তিনি জানান, স্বামী মাদকাসক্ত এবং শারীরিকভাবে অক্ষম। আয় রোজগার করে না। কথায় কথায় মারধর করেন। তাই স্বামীকে তালাক দিয়েছেন তিনি। বুনাগাতী ইউনিয়নের দেশমুখপাড়া গ্রামে স্ত্রীর তালাকের শিকার হয়েছেন রবিউল (ছদ্মনাম) ইসলাম। তিনি জানান, তার স্ত্রী ফেসবুকে আসক্ত। সারাক্ষণ টিকটক করে বেড়ায়। স্ত্রীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ায় সে ছেড়ে চলে যায় এবং এক মাস পরে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দিয়েছে। 

শালিখা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আব্দুল আওয়াল (অতি. দা.) বলেন, বিচ্ছেদের ঘটনা নিরসনে আমরা মাঝে মাঝেই উঠান বৈঠক করি তাছাড়া এগুলো মূলত ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব। 

তালাকের ঘটনা বাড়ার কারণ জানতে চাইলে উপজেলা কোর্ট মসজিদের খতিব মুফতি মোশারফ হোসেন কাসেমী বলেন, ইসলামিক বিষয়ে অজ্ঞতা, পরকীয়া, একে অপরের সাথে ভুল বোঝাবুঝি এবং ইসলামি বিধি নিষেধ না মানার কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ বেশী ঘটছে। এতে করে সামাজিক অবক্ষয়ের পাশাপাশি মানুষের মাঝে মানুষিক চাপ বাড়ছে বলেও জানান তিনি।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  শালিখা   বিবাহ বিচ্ছেদ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close