আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে অনাকাঙ্ক্ষিত নাশকতার শঙ্কায় ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ১৫ তম দিন থেকে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা বলয়। দর্শনার্থীদের তল্লাশিপূর্বক প্রবেশ করানো হচ্ছে মেলায়। তবে বরাবরের মতোই সব পণ্যের দাম বেশি রাখার অভিযোগ করেছেন অনেকেই। তবে রোদ থাকায় মেলায় আইসক্রিম বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় খুশি স্টল সংশ্লিষ্টরা।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে দেখা যায়, মেলায় চারপাশে ৭ শতাধিক পুলিশ সদস্য, সেনাবাহিনীর টহলসহ বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহীনির কঠোর অবস্থান। মেলায় প্রবেশের সময় অবস্থানকারী, বিক্রেতা, দর্শনার্থীদের ব্যাগ ও দেহ তল্লাশি করে প্রবেশ করাতে দেখা গেছে।
জানা যায়, তরুণদের জন্যে প্রতি শুক্রবার ও শনিবারের উন্মুক্ত কনসার্ট আয়োজনে গত শনিবার রাত ৮ টার দিকে শিল্পী ও কতিপয় তরুণ দর্শনার্থীদের মাঝে বাকবিতণ্ডার জেরে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ছাড়াও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে অনাকাঙ্ক্ষিত নাশকতার শঙ্কায় আইন শৃঙ্খলা বাহীনি বিশেষ নজরদারি শুরু করেছেন।
মেলায় নিরাপত্তা ও পার্কিং জোনের দায়িত্বরত পুলিশ পরিদর্শক রঞ্জু আহমেদ বলেন, মেলায় এবার অন্যবারের তুলনায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। আমরা জেলা পুলিশের অধীনে বাহিরের পার্কিং জোনে কাজ করছি।
এদিকে মেলা ঘুরে দেখা যায় শাওন আইসক্রিম স্টলে দর্শনার্থীদের ভীর। কথা হয় তরুণ উদ্যোক্তা শাওনের সঙ্গে। তিনি বলেন, মেলার শুরু থেকেই সরকারি ছুটির দিনে জমজমাট থাকে। সে সময় মনে হয় ঈদের দিন। তবে অন্যদিনেও আইসক্রিম বিক্রি ভালো হয়।
আবার স্টলে স্টলে বিক্রয়কর্মীরা হাক-ডাক দিয়েও ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন আইন বিভাগের শিক্ষার্থী গুতিয়াবোর বাসিন্দা স্বর্ণালী আমান। তিনি বলেন, মাসব্যাপী মেলায় থাকা খাবার হোটেল,আইসক্রিমের দোকানে চাহিদা থাকেই। তবে অন্যপন্যের দাম বেশি হওয়ায় কেনাকাটা খুব একটা হয় না।
এ সময় তিনি মেলার পরিবেশ নিয়ে বলেন, অন্য যে কোনো বারের তুলনায় এবার পরিচ্ছন্ন মেলা। মেলা কর্তৃপক্ষের যেমন দায়িত্ব রয়েছে। তেমনি দর্শনার্থীদেরও নোংরা না করা উচিত। দেশের বৃহত্তর বাণিজ্যের আসর রূপগঞ্জে হচ্ছে। এতে রূপগঞ্জের মানুষ হিসেবে আমরা গর্বিত।
ব্লেজার ও শীতের পোষাকের স্টলে ভীর নেই খুব একটা৷ তবে দৃষ্টি নন্দন ভবন ও সামনের ফটক থেকে ফোয়ারাসহ সৌন্দর্য্যের সাথে স্মৃতি করে রাখছেন অনেক দর্শনার্থী।
আবার স্টলগুলোতে নারী বিক্রয়কর্মীদের হাক ডাক, নারী পন্য বেশি হলেও পুরুষদের পোষাক কম৷ অনেকেই ছাড় ঘোষণা করে বিভিন্ন কোম্পানির অফার লুফে নিচ্ছেন।
এদিকে মেলায় আসা দর্শনার্থীদের যানবাহন পার্কিং ব্যবস্থা দেখভাল করতে দেখা গেছে জেলা পুলিশের সদস্যদের। কিন্তু পার্কিং জোন এলাকায় কোনো প্রকার অবৈধ দোকান বসানোর নিয়ম না থাকলেও কতিপয় অসাধু পুলিশ সদস্যদের ম্যানেজ করে বসানো হয়েছে শতাধিক দোকান। এসব দোকানের কোনোটায় রান্না করা খাবার আবার কোনোটায় চা পানের দোকান বসানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে টিআই রাজিব বাহাদূর এবং পুলিশ পরিদর্শক রঞ্জু আহমেদের বিরুদ্ধে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তারা৷
মেলার সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ইপিবি সচীব ও মেলার পরিচালক তরফদার রহমান সোহেল বলেন, নির্বাচন সামনে তাই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এমনটা করা হয়েছে। এতে মেলায় আসা দর্শনার্থীদেরও নিরাপত্তা বাড়বে৷ তথ্যমতে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেলা চলবে। মেলার সময় কমানো হবে না। আমরা আশা করছি দেশের বৃহত্তর বাণিজ্য সংশ্লিষ্টদের মিলনমেলা রপ্তানি আদেশ পেতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাবে। পাশাপাশি বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, বিদেশি বায়ার,শিল্প ও কুটিরশিল্প সংশ্লিষ্টরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
অন্যদিকে মেলার অভ্যন্তরে সব পণ্যের দাম বেশি বেশি রাখার অভিযোগ করেছেন অনেকেই। ছাড় দিয়েও যা হাঁকা হচ্ছে তাও স্থানীয় বাজার থেকে বেশি ধারনা করা হচ্ছে।
কেকে/ এমএস