যশোরের কেশবপুর উপজেলার পূর্বাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। সরকার আসে, সরকার যায়; কিন্তু পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগের অবসান হয় না।
উপজেলার প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষকে বছরের প্রায় ১০ মাস বাড়িঘর ও উঠানে পানি জমে থাকার কারণে পানিবন্দি অবস্থায় বসবাস করতে হচ্ছে। ২৭ বিল পানি নিষ্কাশন কমিটির সভাপতি, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মাস্টার মকবুল হোসেন মুকুল জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আট-ভেন্ট স্লুইসগেটের মুখে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে সেচ পাম্প চালু করা গেলে বদ্ধ পানি নিষ্কাশন সম্ভব হবে।
উপজেলার বাগডাঙ্গা, মনোহরনগর, মাদারডাঙ্গা, পাথরঘাটা, কাটাখালী, ময়নাপুর, শান্তলা, কালীচরণপুরসহ মনিরামপুর উপজেলার কয়েকটি এলাকাও দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতায় ভুগছে।
হরি-ঘ্যাংরাইল অববাহিকা জলাবদ্ধতা নিরসন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আট-ভেন্ট স্লুইসগেটের সামনে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে সেচ পাম্প স্থাপন করা হলে এ এলাকার পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা সম্ভব।
বাগডাঙ্গা-মনোহরনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বৈদ্যনাথ সরকার বলেন, তার নির্বাচনী এলাকায় এমন কোনো বাড়ি নেই, যেখানে শুকনো পরিবেশ রয়েছে। প্রায় প্রতিটি বাড়ি থেকে বের হতে বাঁশের তৈরি সাঁকো ব্যবহার করতে হয়।
মাদারডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা অমল দাস বলেন, ভোটের সময় জনপ্রতিনিধিরা নানা আশ্বাস দিয়ে ভোট নেন, কিন্তু পরে আর ফিরে তাকান না। ভোট আসে, ভোট যায়; সরকার আসে, সরকার যায়; কিন্তু এ এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কমে না।
সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নেতারা নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তা বাস্তবায়ন করেননি বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
সাবেক ইউপি সদস্য দুর্গা শঙ্কর জানান, জলাবদ্ধতার কারণে এখানকার মানুষ প্রয়োজনে একটি গাছ পর্যন্ত বিক্রি করতে পারেন না। এলাকার মাঝ দিয়ে যাওয়া সড়কের ওপরই অনেককে গরু-ছাগল বেঁধে রাখতে হয়।
এলাকার ভুক্তভোগীদের দাবি, বর্তমান সরকার দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসন করুক এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে তাদের মুক্তি দিক।
কেকে/এলএ