রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার শোন শুনি পাড়ার নুরুল ইসলাম মনি নামে এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তার তালগাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করায় এক ব্যক্তিকে মারধর, বসতভিটা দখলের চেষ্টা, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। লুট করা গাছ বিক্রি করে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় শোন শুনি পাড়ার বাসিন্দা মইদুল ইসলাম গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি কপি রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও উপজেলা সহকাররি কমিশনার (ভূমি) বরাবর দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত কিছু প্রমাণ ইতোমধ্যে গণমাধ্যমের হাতে এসেছে।
লিখিত অভিযোগপত্রে নুরুল ইসলাম মনির রাজনৈতিক পরিচয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করে তাকে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, নুরুল ইসলাম মনি রাজশাহী মহানগর জামায়াতের রাজপাড়া থানা কমিটির আমির। তিনি গোদাগাড়ীর শোন শুনি পাড়ার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে এবং বর্তমানে রাজশাহী মহানগরীর বহরমপুর এলাকায় বসবাস করছেন।
অভিযোগে মইদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, প্রায় তিন মাস আগে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নুরুল ইসলাম মনি ও তার ভাইয়েরা কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি ছাড়াই এলাকার সরকারি রাস্তার পাশ থেকে ২২টি তালগাছ কেটে বিক্রি করেন।
লিখিত অভিযোগ হতে আরও জানা যায়, গত ২৫ ডিসেম্বর মনির মদদে তার ভাই রফিকুল ইসলাম, অন্য ভাই ও ভাতিজারা একই রাস্তার পাশ থেকে আরও সাতটি তালগাছ কাটেন। এতে তিনি প্রতিবাদ জানালে তার খামারের ভেতরে থাকা একটি বরই গাছও জোরপূর্বক কেটে নেওয়া হয়।
মইদুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি তিনি স্থানীয় ভূমি অফিসে মৌখিকভাবে জানালে ক্ষুব্ধ হয়ে মনির ভাই রফিকুল ইসলামসহ অন্যরা তার বসতভিটা দখলের চেষ্টা করেন। বাধা দিলে তাকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং গত ৪ জানুয়ারি গোদাগাড়ী উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
মইদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ঘটনার পর দিন ৫ জানুয়ারি রফিকুল ইসলাম নিজেকে আহত দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই মনি ও তার ভাইয়েরা তাকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ কারণে তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারি তালগাছ লুটের ঘটনায় নুরুল ইসলাম মনি ছাড়াও তার ভাই রফিকুল ইসলাম, শামসুল আলম ও সালাহউদ্দীন সরাসরি জড়িত। তারা সরকারি রাস্তার ২৯টি তালগাছ প্রকাশ্যে কেটে বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এলাকাবাসী মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই রাজশাহী শহরে থাকি। ওই এলাকার জমিজমা আমি চিনি না। এসব ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমার ভাইয়েরা সেখানে থাকেন, তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।’
তার ভাই শামসুল আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা সরকারি রাস্তার কোনো তালগাছ কাটিনি। নিজেদের জমির আটটি তালগাছ কেটেছি। রাস্তার গাছ কে কেটেছে, সে বিষয়ে আমি জানি না।’
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাদাত রত্ন বলেন, ‘অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে। যদি সরকারি রাস্তার গাছ কাটা হয়ে থাকে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এমএ