মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে সুখবর      এবার পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন      
রাজনীতি
জিয়াউর রহমানের দৃষ্টিভঙ্গি ও অর্জন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৩৮ পিএম আপডেট: ১৯.০১.২০২৬ ২:৩৯ পিএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের অন্ধকারে চট্টগ্রামের ক্যান্টনমেন্টে পাকিস্তানি সেনাদের নৃশংসতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এক যুবক সৈনিক দেশকে নেতৃত্বের পথ দেখালেন, তিনি মেজর জিয়াউর রহমান। যিনি তখন বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনীর প্রাদেশিক কমান্ডার, সাহসী ভাষণে ঘোষণা করেন, “উই রিভোল্ট!”—এটাই ছিল দেশের জনগণের জন্য স্বাধীনতার প্রথম বার্তা।

মুক্তিযুদ্ধের ঘূর্ণিঝড় থেকে বেরিয়ে এসে জিয়াউর রহমানের দৃষ্টিভঙ্গি একমাত্র রাজনৈতিক কৌশল নয়, তা ছিল অর্থনৈতিক এবং সামাজিক পুনর্গঠনের দৃঢ় পরিকল্পনা। তিনি বিশ্বাস করতেন, দেশের স্বাধীনতা শুধু অস্ত্রের জয়ে নয়, মানুষের জীবনমান ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতায় প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। খাল খনন, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, উন্নত বীজ ও কৃষি ভর্তুকি—সবই ছিল তার “সবুজ বিপ্লব”। ১৯৭৫-৭৬ সালে দেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে অগ্রসর হয়; ১৯৮০-৮১ সালে খাদ্যশস্যের উৎপাদন দাঁড়ায় ১ কোটি ৫০ লাখ টনে।

কিন্তু জিয়াউর রহমানের অবদান শুধুই কৃষি বা খাদ্য নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে প্রাইভেট খাত এবং বেসরকারি উদ্যোগের দিকে খোলার উদ্যোগ নেন। রাষ্ট্রের মালিকানাধীন শিল্প-কারখানাগুলো বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হয়, এবং ব্যাংক ও বীমা খাত উন্মুক্ত করা হয়। ১৯৭৮ সালে ‘দেশ গার্মেন্টস’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রফতানি পোশাক শিল্পের সূচনা হয়, যা আজ দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি।

গ্রামীণ অর্থনীতি ও জনজীবনের উন্নয়নেও তার চিন্তাভাবনা ছিল সুগভীর। ১৯৭৭ সালে গঠিত হয় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, যা দেশের ইতিহাসে প্রথমবার গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করে। একই সঙ্গে প্রবাসী কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের জনশক্তিকে বৈধ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করেন।

কিন্তু সবসময় সফলতাই আসেনি। ষড়যন্ত্র ও বিপদের মাঝেও তিনি দেশকে এগিয়ে নিতে ব্যর্থ হননি। ১৯৭৫ সালে সিপাহি বিপ্লবের পর রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে রাজ্য পরিচালনার সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে ব্যস্ত ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ১৯৮১ সালের মে মাসে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে শহীদ হন, কিন্তু জনগণের হৃদয়ে তার ভালোবাসা, নেতৃত্ব এবং দর্শন আজও জীবন্ত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, “জিয়াউর রহমান শুধুমাত্র সেনাপ্রধান বা রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন না, তিনি দেশকে নতুন অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো দিতে চেয়েছিলেন। তার কর্মশক্তি ও নীতি দেশের উন্নয়নের পথচলায় আজও প্রেরণা দেয়।”

জিয়াউর রহমানের জীবন আমাদের শেখায়, সংকটের সময় নেতৃত্ব মানে শুধু সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়; তা মানে সাহস, দূরদর্শিতা এবং বাস্তবমুখী পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়া। তার ‘খাল, সেচ, ফসল আর আয়’ দর্শন আজও দেশের অর্থনৈতিক গল্পের মূল থিম হিসেবে প্রতিফলিত হয়।

কেকে/ আরআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  সংকটকাল   জিয়াউর রহমান  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

রাজনীতি- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close