কিশোরগঞ্জে শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অসহায়, ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলার মূলধারার সাংবাদিকদের সংগঠন ‘কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরাম’।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে শহরের আখড়াবাজার মোড়ের অস্থায়ী শ্রমিক হাটে এসব কম্বল বিতরণ করা হয়। একই সময়ে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মী, রিকশা চালক ও চায়ের দোকানের কর্মচারিদের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন ফোরামের সভাপতি নূর মোহাম্মদ, সাধারণ সম্পাদক এসকে রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আলম ফয়সাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল ইসলাম পিংকু, কোষাধ্যক্ষ শরফ উদ্দীন জীবন, দপ্তর সম্পাদক মেহবুব আলম মনি, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক তারেক রহমান, কার্যকরী সদস্য মশিউর কায়েস, ওমর সিদ্দিক রবীন, রুবেল হোসাইন প্রমুখ।
এদিকে, কম্বল হাতে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন দরিদ্ররা। আব্দুল মোতালেব বলেন, “ভোর থাইক্যা এইহানে কামের লাইগ্যা বইস্যা থাহি। শীতের শরীর জইম্যা যাইতাসে। বাবারে এই সময়ে কম্বলডা পাওনে খুব উপকার হইসে।”
পরিচ্ছন্নতা কর্মী আমেনা আক্তার বলেন, “আশপাশের অনেকেই সরকারি সহযোগিতা পেলেও আমি কোনো সহযোগিতা পাইনি। কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরাম আমাদের কম্বল দিয়েছেন। আমার দুইটি ছেলে মাদ্রাসায় পড়ে, তারা এই কম্বল গায়ে দিয়ে ঘুমাবে, তাই খুব ভালো লাগছে।”
রিকশা চালক খায়রুল ইসলাম বলেন, “কয়েক দিন ধরে তীব্র শীত পড়ছে। রাতে ঘুমাইতে পারি না শীতের জন্য। আমাদের মতো অসহায় মানুষের শীত নিবারণের জন্য তেমন কিছু নেই। ছোট মেয়ের জন্য একটা কম্বল কিনার সামর্থ্য হচ্ছে না। এখন কম্বল পাওয়ায় অনেক উপকার হইছে।”
ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এসকে রাসেল জানান, ভবিষ্যতেও এই ধরনের কল্যাণমূলক কাজের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে এবং অসহায় ও হতদরিদ্র জনসাধারণের পাশে জেলার মূলধারার সাংবাদিকদের সংগঠন কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরাম পাশে থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ফোরামের সভাপতি নূর মোহাম্মদ জানান, সংগঠনের সদস্যদের সহযোগিতায় শীতার্থ মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আমাদের সাধ্যমতো দরিদ্র মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করবো।
কেকে/ আরআই