চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পিঠাকে পুনরায় ছোঁয়া দিতে শামসুল ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গণির সভাপতিত্বে ও সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলীর সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. নুরুল ইসলাম ও ইউপি সদস্য আমানুল হক আমান।
পিঠা উৎসবে হরেক রকমের ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, ঝাল পিঠা, কলা পিঠা, খেজুরের রসের পিঠা, ক্ষীর কুলি, পাটিসাপটা, নকশি পিঠা, দুধরাজসহ আরও বিভিন্ন পিঠা প্রদর্শন করা হয়। উৎসবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা পিঠার পরিচিতি জানাতে স্টলে লিখিত তথ্যও প্রদর্শন করেন।
এদিকে, স্কুল প্রাঙ্গণটি পুরো দিন মিলনমেলায় পরিণত হয়, যেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অংশগ্রহণ করে আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফাহিরা বিনতে আনোয়ার আনিশা বলেন, “প্রতিবছরই আমাদের বিদ্যালয়ে পিঠা উৎসব হয়। এ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে মায়ের কাছ থেকে বিভিন্ন পিঠা বানানোর অভিজ্ঞতা অর্জন করি। আজ আমরা বান্ধবীরা মিলে হরেক রকম পিঠার আয়োজন করেছি। যেহেতু শীতকালে বিভিন্ন পিঠা তৈরী করা আমাদের বাঙালির ঐতিহ্য। তাই আমাদের বিদ্যালয়ের মত সবারই উচিৎ এ ধরণের আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের বাঙালির ঐতিহ্য ধরে রাখা।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গণি বলেন, “পিঠাপুলি হলো আমাদের লোকজ ও নান্দনিক সংস্কৃতিরই প্রকাশ। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যকে স্মরণ করতেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মিলে এ উৎসবের আয়োজন করেছেন। আমাদের স্কুলে প্রতি বছর এ পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়ে থাকে। সত্যিই বেশ ভালো লাগছে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য বর্তমান প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই এরকম পিঠা উৎসব প্রশংসার দাবিদার। শিক্ষার পাশাপাশি এরকম ব্যতিক্রমী আয়োজন প্রয়োজন রয়েছে। এ ধরণের উৎসব মেধা বিকাশে ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে উৎসাহিত করবে।” পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের এমন সুন্দর উদ্যোগকে প্রশংসা করেন তিনি।
কেকে/ আরআই