বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় সুদের ফাঁদে পড়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে একটি সংখ্যালঘু পরিবার। টাকা শোধ করার পরও ব্ল্যাংক স্ট্যাম্প দেখিয়ে তাদের কাছে ৭ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
চিতলমারী উপজেলার দড়ি উমাজুড়ী গ্রামের দুই সহোদর বিজয় মন্ডল ও কৃষ্ণপদ মন্ডল জানান, প্রায় নয় বছর আগে ঘের ও জমি সংক্রান্ত কাজে স্থানীয় কয়েকজনের কাছ থেকে তারা ৩ লাখ টাকা ধার নেন। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবছর ৯০ হাজার টাকা সুদ দেওয়ার কথা ছিল। তারা দাবি করেন, টানা প্রায় ছয় বছর সুদের টাকা পরিশোধ করেছেন এবং পরে জমি ও ঘের বন্ধক রেখে মূল ৩ লাখ টাকাও শোধ করা হয়।
তবে টাকা পরিশোধের পরও সুদের অজুহাতে আবার নতুন করে টাকা দাবি করা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ছয় মাস আগে স্থানীয়ভাবে তাদের আটকে রেখে তিনটি ব্ল্যাংক স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক সই করিয়ে নেওয়া হয়। এখন সেই স্ট্যাম্প দেখিয়ে ৭ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে। টাকা না দিলে বাড়িঘর ও ঘের দখল এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগী বিজয় মন্ডল বলেন, ‘সব টাকা শোধ করার পরও আমাদের সর্বস্বান্ত করার চেষ্টা চলছে। পরিবার নিয়ে আমরা চরম আতঙ্কে আছি।’
কৃষ্ণপদ মন্ডল বলেন, ‘আইন না জানার সুযোগ নিয়ে আমাদের দিয়ে ব্ল্যাংক স্ট্যাম্পে সই করানো হয়েছে। এখন জমি আর জীবন—দুটোই বিপন্ন।’
এ ঘটনায় তারা চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পরিবারটি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ থাকার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সুদের দৌরাত্ম্য ও প্রভাবশালীদের চাপে সাধারণ মানুষ দিন দিন আরও অসহায় হয়ে পড়ছে। প্রশ্ন উঠছে—সুদ ও আসল শোধের পরও কি মানুষকে সর্বস্বান্ত হতে হবে?
কেকে/এমএফ