গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্নয়কারী জোনায়েদ সাকী বলেছেন, ‘সারাদেশের মতো বাঞ্ছারামপুরেও বিএনপির নেতাকর্মীদের রিমান্ডে নিয়ে ঝুলিয়ে পেটানোসহ ভয়াবহ নির্যাতন করা হয়েছে। তবুও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই থেমে থাকেনি।’
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাঞ্ছারামপুর সাত নম্বর সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাথে পরিচিতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সভায জোনায়েদ সাকী আরও বলেন, ‘একটি ফ্যাসিবাদী সরকার বিদায় নিয়েছে। এখন নতুন বাংলাদেশ গড়ার সময়। প্রতিহিংসার রাজনীতিতে নয়, কল্যাণকর রাষ্ট্রের বন্দোবস্ত করতে হবে। বাঞ্ছারামপুরবাসী যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। আমাদের লড়াই শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য ছিল না, বরং ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য ছিল। যে সরকার দেশ থেকে ন্যায়বিচার উধাও করে দিয়েছিল, জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে স্বৈরশাসন কায়েম করেছিল, সেই ব্যবস্থা বদলাতে হবে।’
‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শাসকরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। দেশের ১৮ কোটি মানুষ ভোটের মাধ্যমে ঠিক করবে কারা তাদের প্রতিনিধি হবে।’
তিনি বলেন, ‘সংবিধান এমনভাবে সংস্কার করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শাসক ইচ্ছামতো তা পরিবর্তন করতে না পারে। জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও জাতীয় সংসদের মাধ্যমে এই সংস্কার হতে হবে। গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন ছাড়া টেকসই সংস্কার সম্ভব নয়।’
বিএনপি ঐক্যজোটের গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ও মাথাল মার্কার প্রার্থী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন এই তিনটি বিষয়ই এখন জাতীয় স্বার্থে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
জুলাই মাসে ছাত্র, শিশু ও তরুণদের হত্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন পেছানো বা বানচালের যে কোনো ষড়যন্ত্র দেশকে গভীর সংকটে ফেলবে। এই মুহূর্তে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার অপরিহার্য।’
‘আমাদের সামনে কয়েকটি সুস্পষ্ট দায়িত্ব দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জনগণের ভোটে ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করা এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা।’
প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার দেখানো স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ধারাকে সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক একেএম মূসা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মম ইলিয়াস, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি লিয়াকত আলী ফরিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম সাজ্জাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএইচজেড শুকরী সেলিম, উপজেলা গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সম্বয়নকারী শামীম শিবলী।
কেকে/এমএ