কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করতে ছোট ভাইয়ের ঘরবাড়ি ভাংচুর ও গাছ কেটেছেন বড় ভাই। এ ঘটনায় ছোট ভাইয়ের বউ ভুক্তভোগী কাজল বেগম বাদী হয়ে হামলাকারী বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। মামলায় স্বাক্ষী হয়েছেন হামলাকারীর পিতা মো. খোকন।
রোববার (১৯ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের চাঁন্দকরা উত্তর পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে জানা যায়, বাতিসা ইউনিয়নের চাঁন্দকরা গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে ওমান ফেরত বেলাল হোসেন ও দুবাই প্রবাসী শাহ আলমের জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এরপূর্বে কয়েক দফায় দুবাই প্রবাসী শাহ আলমের স্ত্রী কাজল বেগমের ওপর হামলা করে ভাশুর বেলাল হোসেন। এরইমাঝে খোকন মিয়ার কৃষি জমি থেকে তার পুত্র বেলাল হোসেন মাটি বিক্রি করে। এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনকে জানান খোকন মিয়া। জসিম উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এতে ক্ষীপ্ত হয়ে রোববার সকালে বেলাল হোসেন ছোট ভাই শাহ আলমের মালিকানাধীন বাড়ির জায়গার গাছপালা কর্তন ও ঘরের জানালা ভাংচুর করে। খবর পেয়ে আশ-পাশের বাড়ির লোকজন ঘটনাস্থলে গেলে সে চলে যায়। এরআগে বেলাল হোসেন তার পিতা খোকন মিয়াকে বেশ কয়েকবার মারধর করে। পিতার সাথে ঝামেলার কারণে ভাইয়ের ঘর ভাংচুর ও গাছপালা কর্তন করার উদ্দেশ্য খুঁজে পাচ্ছে না কেউ।
বেলাল হোসেনের মা আলেয়া বেগম ও প্রতিবেশী বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘শাহ আলম প্রবাসে তাকে। সে কোন কিছুর সাথে জড়িত না থাকলেও অন্যায়ভাবে তার মালিকানাধীন গাছপালা কর্তন ও ঘরের জানালা ভাংচুর করেছে বেলাল হোসেন। আবার তার স্ত্রী কাজল বেগমকেও কয়েকবার নির্যাতন করেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’
অভিযোগের বিষয়ে বেলাল হোসেনের স্ত্রী আছমা আক্তার বলেন, ‘বেলাল হোসেনের পিতা খোকন মিয়া তার প্রতি অবিচার করেছে। বিদেশ থেকে পাঠানো টাকায় বেলাল হোসেনের নামে জায়গা না কিনে নিজ নামে কিনেছে। তাছাড়া বেলাল হোসেনের মাথায় সমস্যা আছে। চিকিৎসা করাচ্ছি। তবে শাহ আলমের গাছপালা কর্তন ও ঘর ভাংচুর করা ঠিক হয়নি।’
এ ব্যাপারে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার সৈয়দ সানা উল্লাহ বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
কেকে/এমএ