কুমিল্লার চান্দিনায় ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে সামান্য বিরোধের জের ধরে এক কৃষকের এক বিঘা জমিতে চাষ করা টমেটো গাছের গোড়া কেটে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের আলিকামোড়া গ্রামে কৃষক শুক্কুর আলীর জমিতে এ ঘটনা ঘটে। এতে ওই কৃষকের প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এদিকে উপজেলা কৃষি বিভাগের ধারণা, ওই জমি থেকে কমপক্ষে পাঁচ লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করা সম্ভব হতো।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শুক্কুর আলী বলেন, “আমার জমির পাশে পতিত জমিতে কিশোররা খেলাধুলা করত। খেলা চলাকালীন বল পড়লেই গাছ ভেঙে যেত। আমি খেলতে নিষেধ করেছিলাম। এর জন্য এমন সর্বনাশ করবে, ভাবতে পারিনি। বিকেলে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। পরদিন ফিরে এসে দেখি আমার সব শেষ।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে মনিরের ছেলে সুজনের সঙ্গে শুক্কুর আলীর কথা কাটাকাটি হয়। ওই রাতেই জমির কাঁচা-পাকা টমেটো নষ্ট করা হয় এবং কিছু টমেটো তুলে নেওয়া হয়। পরদিন শনিবার বিষয়টি জানালে ক্ষোভের বশে ওই রাতেই পুরো জমির সৃজিত টমেটো গাছের গোড়া কেটে ফেলা হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শুক্কুর আলী আরও বলেন, “এই জমিতে ৩ হাজার ২০০টি গাছ ছিল। ধার-দেনা করে চাষ করেছি। বাম্পার ফলনও হয়েছিল। আর কয়েকদিন পরই টমেটো তুলতাম। এখন আমি নিঃস্ব।”
এ ঘটনায় শুক্কুর আলী চান্দিনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
এ ঘটনায় আলিকামোড়া গ্রামে কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত দোষীদের শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত সুজনের বাবা মনির হোসেন বলেন, “ঝগড়ার বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছে। তবে ঘটনার দিন রাতে আমার ছেলে ঘরেই ছিল। আর অভিযোগ হয়ে থাকলে আইনের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল।”
ঘটনার পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোরশেদ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, “গাছগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে কেটে ফেলা হয়েছে। এটি একজন কৃষকের জন্য বড় আর্থিক ক্ষতি। আমরা ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন প্রস্তুত করছি। আমাদের দপ্তর থেকে কৃষককে সহায়তা করা হবে।”
চান্দিনা থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাইজখার ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নুর বলেন, “ঘটনাটি কৃষি কর্মকর্তার সূত্রে অবহিত হয়েছি। গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার করা হবে।”
কেকে/এলএ