আমরা বাংলাদেশে থাকতে কোন অপশক্তিকে আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হতে দিব না, বিশ্ব জাকের মঞ্জিল বাইশরশি দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত চার দিনব্যাপী বিশ্ব ইসলামী মহাসম্মেলনে জাকের পার্টির চেয়ারম্যান পীরজ্বাদা আলহাজ্ব খাজা মোস্তফা আমীর ফয়সাল মুজাদ্দেদী এ কথা বলেন।
জাকের পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই বাংলাদেশ ওলি আউলিয়াগণের দেশ। এই বাংলাদেশ আমার পীর কেবলাজান হুজুরের দেশ। এই দেশকে ধ্বংস করার জন্য ষড়যন্ত্র এখনও অব্যাহত আছে। মুখে ইলেকশনের নাম আমরা শুনি, কিন্তু ইলেকশনকে সামনে রেখে যে ভয়াবহ রক্তপাতের চক্রান্ত আমরা প্রত্যাক্ত এবং লক্ষ্য করছি। তবে আমরা বাংলাদেশে থাকতে কোন অপশক্তিকে আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হতে দিবো না। তাদের বিষ দাঁত ভেঙ্গে দিবে জাকের পার্টি।’
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে বিশ্ব জাকের মঞ্জিল বাইশরশি দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত চার দিনব্যাপী বিশ্ব ইসলামী মহাসম্মেলনে সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাকের পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘আমার খাজাবাবার চরনতলে বসে থাকতো ক্ষমতাসীনরা। আজ থেকে নয়, পাকিস্তান আমল থেকেই। সেই ক্ষমতাসীনদের প্রত্যাখান করে, বিতাড়িত করে এ দেশের মানুষদেরকে আদর্শে পবিত্রতার পরশে পবিত্র করার জন্য প্রকৃত মানুষে রূপান্তরিত করতে আমাদেরকে দিয়ে গেছেন জাকের পার্টি। এটা আত্মশুদ্ধির পার্টি, এটা সমাজের পরিবর্তন আনার পার্টি, এটা সোনার মানুষ তৈরি করার পার্টি এবং সমস্ত মানুষদেরকে আল্লাহমুখী করার পার্টি।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাকের পার্টি আল্লাহর বন্ধুর সহব্বতে ও মহব্বতে পাগল করার পার্টি। আদবের পার্টি, বুদ্ধিকে পবিত্র করার পার্টি, সত্যের পথে থাকা পার্টি, একতার পার্টি, ঐক্যের পার্টি। সেই পার্টি নিয়ে আমরা অগ্রসর হচ্ছি। এটা জনশক্তির পার্টি। আমাদের কাজ হচ্ছে দেশের মানুষের পরিবর্তন করা, পৃথিবীর মানুষদের চারিত্রিক পরিবর্তন আনা, বিনয় ফিরিয়ে আনা, উগ্রতা থেকে ফিরিয়ে আনা, এসবই হচ্ছে জাকের পার্টির মূল লক্ষ্য।’
এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, জাকের পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ড. সায়েম আমীর ফয়সাল ও মহাসচিব শামীম হায়দার।
গত শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর বিশ্বওলী খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) কেবলাজান হুজুরের রওজা জিয়ারতের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় চারদিন ব্যাপী উক্ত মহাসম্মেলন। দেশের দুর দুরান্ত থেকে লাখ লাখ জাকেরান ও আশেকানরা এতে অংশ নেন। আর এই চার দিনব্যাপী মহাসম্মেলনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, নফল ইবাদত, জিকির-আসকারসহ ইবাদত বন্দেগী চলে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ফজর নামাজ শেষে বিশ্ব মুসলিম উম্মার শান্তি কামনায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এবারের ইসলামী মহাসম্মেলন শেষ হয়।
কেকে/বি