স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার পূর্ব বালাগ্রাম ছকিনীয়া বহুমুখী দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন সড়কটিতে। সংস্কারের অভাব আর পাশ্ববর্তী পুকুরে রাস্তা ধসে পড়ার কারণে এখন এ সড়কটি বর্তমানে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে চরম ঝুঁকি আর দুর্ভোগ নিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করছেন কয়েক হাজার মানুষ ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাদ্রাসাটি সামনে অবস্থিত একটি বিশাল পুকুরের কোনো প্রতিরক্ষা দেয়াল (গার্ডওয়াল) নেই। ফলে বৃষ্টির দিনগুলোতে এবং বর্ষার তোড়ে সড়কটি ক্রমাগত পুকুরে বিলীন হচ্ছে। বর্তমানে রাস্তাটি এতটাই সরু হয়ে গেছে যে, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের নানা সমস্যার মধ্যে চলাচল করতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে ধুলার কুয়াশা আর বর্ষায় কাদা, সব মিলিয়ে সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পূর্ব বালাগ্রাম ছকিনীয়া বহুমুখী দাখিল মাদ্রাসার বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা ৮৩৩ জন।
এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থী ছাড়াও বালাগ্রাম, গোলমুন্ডা ও ডাউয়াবাড়ী, এই তিন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের যাতায়াতের প্রধান পথ এটি।
এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ একটি ভোটকেন্দ্রের সংযোগ সড়ক হওয়ায় জনজীবনের গুরুত্ব অপরিসীম।
এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী মিতু ও মীম জানায়, ভোট এলে সবাই প্রতিশ্রুতি দেয় আর ভোট শেষ হলে কেউ খবর রাখে না। বর্ষায় কাদা মাড়িয়ে মাদ্রাসায় যেতে আমাদের পোশাক নষ্ট হয়ে যায়, খুব কষ্ট হয়।
মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মমিনুর রহমান বলেন, তিনটি ইউনিয়নের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দ্রুত পাকাকরণ এবং পুকুর সংলগ্ন স্থানে গার্ডওয়াল নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি। এটি কেবল যাতায়াত নয়, নিরাপত্তার প্রশ্নও বটে।
ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও ইউপি সদস্য মোসলেম উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সড়কটি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা করা হলেও কোনো এক অজ্ঞাত কারণে কাজ শুরু হচ্ছে না।
উপেক্ষিত এই জনপদের মানুষের এখন একটাই দাবি, সরকার অবিলম্বে এই সড়কটি পাকাকরণের উদ্যোগ নিলে ৫৪ বছরের বঞ্চনার অবসান ঘটবে।
কেকে/ এমএস