ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ প্রতীক বরাদ্দ ও প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। এ ছাড়া আগামী কাল থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করবেন প্রার্থীরা। এর মধ্যে নির্বাচন ঠেকাতে নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে। কয়েকটি রাজনৈতিক দল কৌশলে নির্বাচনি পরিবেশ নষ্টের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীদের ঠেকাতে চালানো হচ্ছে নানা তৎপরতা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াত ও এনসিপি নির্বাচন ঠেকাতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি, প্রতিপক্ষ বিশেষ করে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীরা যাবে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন তার জন্য সম্ভাব্য সব পথ অবলম্বন করছেন। কারণ নির্বাচনে জয় পাওয়া নিয়ে এই দুই দলের সংশয় রয়েছে। দল দুটি চায় বিএনপির কিছু প্রার্থীকে যদি বিরত রাখা যায়, তাহলে ওইসব আসনে তাদের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তারা মূলত ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চায়। এ ছাড়া নানা উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে প্রতিপক্ষকে সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে চাইছে। যাতে করে মানুষের সহানুভূতি আদায় করা যায় ভোটের মাঠে।
বিএনপির প্রার্থীকে ঘায়ের করতে দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপি ইস্যুটি সামনে আনছে এনসিপি-জামায়াত। বিশেষ করে দলটির হেভিওয়েট প্রার্থীদের ঠেকাতে এই ইস্যুকে কাজে লাগাচ্ছে।
সূত্র বলছে, দ্বৈত নাগরিক ইস্যুতে বিএনপির হেভিওয়ট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে জামায়াত। সূত্রের খবর, আজ কুমিল্লা-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি ইস্যু নিয়ে হাইকোর্টে রিট করবে জামায়াত। যদিও এই ইস্যুতে ইসির ক্লিনচিট পেয়েছেন কায়কোবাদ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কায়কোবাদ কুমিল্লা-৩ আসনের হেভিওয়েট প্রার্থী। জনপ্রিয়তায় তিনি জামায়াতের প্রার্থীর চেয়ে অনেক এগিয়ে। তাই তাকে ঠেকাতে আইনি জটিলতায় জড়নো হচ্ছে। এর আগে ইসিতে মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই চলাকালে কায়কোবাদসহ বিএনপির বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপিল করেছিল জামায়াত ও এনসিপি। এমনকি কায়কোবাদের প্রার্থিতা ঠেকাতে ইসির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আপিল শুনানিতে হাজির হয়েছিলেন এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ।
সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির আরও কয়েজন প্রার্থীকেও নানাভাবে আইনি জটিলতায় জড়ানোর চেষ্টা চলছে।
এর পাশাপাশি কয়েকটি আসনে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও নির্বাচনি বিধি লঙ্ঘন করে বিএনপির প্রার্থীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন এনসিপির প্রার্থীরা।
বিশেষ করে ঢাকা-৮ আসনে এনসিপি প্রার্থী নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী ক্রমাগত বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। জনসংযোগে গিয়ে নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে গডফাদার, চাঁদাবাজ, উদ্বাস্তু হিসেবে আখ্যাতিত করে বক্তৃতা দিচ্ছেন। যা রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত বলে মন্তব্য করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তারা বলছেন, এনসিপির কিছু প্রার্থী সংঘাত সৃষ্টির পাঁয়তারা করছেন। তাই তারা ইচ্ছাকৃতভাবে উসকানিমূলক ও মানহানিকর বক্তব্য দিচ্ছেন। মনে হচ্ছে তারা চাচ্ছেন, বিএনপির কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি করুক। আর তারা তখন এর ফায়দা নেবে।
নাসিরউদ্দীন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি দুই টাকার কমিশনার ছিলেন। উদ্বাস্তু হিসেবে ঢাকায় এসেছেন। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজী করে জনগণের পকেটের টাকা কেটে ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছেন। এনসিপির এই নেতা মানুষের পালস বুঝে মির্জা আব্বাসকে রাজনীতি করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, তাহলে তিনি মানুষের ভোট পাবেন।
এদিকে কিছু প্রার্থী ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্য নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা আব্বাস।
কারো নাম না নিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘কিছু কিছু প্রার্থী এমন কথাবার্তা বলছেন, ওইগুলো উসকানিমূলক কথাবার্তা। তাদের যে কাজকর্ম, তাদের কথাবার্তা অত্যন্ত উসকানিমূলক। তারা নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা লঙ্ঘন করে অন্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে কথা বলছেন। আমি যে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি সেই আসনের কিছু কিছু প্রার্থী আমার সম্পর্কে আজেবাজে কথা বলতেছে।’
তিনি বলেন, ‘তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলছে, যাতে আমরা একটু ইরিটেটেড হই। এ ব্যাপারে আমি নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানাব, তারা যেন একটু খেয়াল রাখেন।’
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া দিতে চাই না, দিবও না। আমরা চাই, নির্বাচনটা সুষ্ঠু হোক এবং সুন্দর হোক।’
কেকে/এমএ