ইউএনওর কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেঙ্গুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলেও, সেই নিয়োগ ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা ও গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত করে। প্রজ্ঞাপনে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশও দেওয়া হয়। এরপর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমকে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তবে দায়িত্ব গ্রহণের আগেই প্রশাসকের শেখ মুজিবুর রহমানের ছবির সঙ্গে তোলা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে বিএনপির স্থানীয় একাংশের মধ্যে ক্ষোভ ও সন্দেহ তৈরি হয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় শনিবার (১৭ জানুয়ারি) লেঙ্গুরা বাজারে সরকারি জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগে প্রশাসনের পরিচালিত এক মোবাইল কোর্টকে কেন্দ্র করে। অভিযানের সময় চেয়ারম্যানের ছোট ভাই ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. পারভেজ ভূঁইয়াকে আটক করে ৫০ টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ঘটনার পর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমানের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, চেয়ারম্যান মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এবং অভিযানের আগে অনুমতি নেওয়ার দাবি করছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনকে আইন মেনে চলার নির্দেশ দিচ্ছেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মতে, জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে চেয়ারম্যান ম্যাজিস্ট্রেটের কাজে বাধা দিয়েছেন এবং আদালত চলাকালীন আচরণে আদালত অবমাননার শামিল হয়েছেন। ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসদাচরণের অভিযোগে স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া অভিযোগ করে বলেন, পুরো বিষয়টি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। ভাইরাল ভিডিওর শুধু একটি অংশ প্রকাশ করা হয়েছে, যা পতিত সরকারের অনুসারীদের কাজ বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রশাসক হিসেবে যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তিনিও স্বৈরাচারী সরকারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
এ বিষয়ে ইউএনও মাসুদুর রহমান জানান, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় চেয়ারম্যান সরাসরি বাধা দেন। বিষয়টি ভিডিও আকারে ছড়িয়ে পড়লে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়। এখানে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নেই বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, চেয়ারম্যানকে কোনো দণ্ড দেওয়া হয়নি; জরিমানা করা হয়েছে তার ভাই পারভেজ ভূঁইয়াকে।
কেকে/এমএফ