বাগেরহাট জেলার চারটি আসনে বিএনপি বিদ্রোহী, এনসিপি ও খেলাফত মজলিসসহ ছয় প্রার্থী তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে এসব প্রার্থীরা তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাট-১ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (রিকশা মার্কা) আমীর মাওলানা মামুনুল হক মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।
বাগেরহাট-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএ সালাম, খেলাফত মজলিসের (রিকশা মার্কা) মাওলানা রমিজ উদ্দিন এবং খেলাফত মজলিসের (দেয়াল ঘড়ি) বালী নাসের ইকবাল মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। বাগেরহাট-৩ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’র মোল্লা মো. রহমাতুল্লাহ এবং খেলাফত মজলিসের (রিকশা মার্কা) মো. জুলফিকার হোসেন তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন।
এনসিপি, খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতারা জানান, ১০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন এবং জোটের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন। বিএনপির সাবেক জেলা সভাপতি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএ সালাম বলেন, তিনি দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন এবং দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন।
৬ প্রার্থী তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করায় জেলার চারটি আসনে এখন মোট ২৩ জন বৈধ প্রার্থী রয়েছেন। বাগেরহাট-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৮ জন প্রার্থী। এরা হলেন: বিএনপির কোপিল কৃষ্ণ মন্ডল, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএ এইচ সেলিম, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. মাসুদ রানা, ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতের মাওলানা মশিউর রহমান খান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের আবু সবুর শেখ, এবি পার্টি মনোনীত মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি-জেপি’র স. ম. গোলাম সরোয়ার এবং মুসলিম লীগের এমডি শামসুল হক।
বাগেরহাট-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৪ জন প্রার্থী। বিএনপির ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মাদ জাকির হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএ এইচ সেলিম, ১০ দলীয় জোটের জামায়াতের শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অ্যাড. আতিয়ার রহমান।
বাগেরহাট-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৫ জন প্রার্থী। বিএনপির ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএ এইচ সেলিম, ১০ দলীয় জোটের জামায়াতের অ্যাড. আব্দুল ওয়াদুদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জিল্লুর রহমান এবং জাতীয় সমাজ তান্ত্রিক দল-জেএসডির মো. হাবিবুর রহমান মাস্টার।
বাগেরহাট-৪ আসনে কোন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেনি। এই আসনে পূর্বের মত ৬ জন প্রার্থী রয়েছেন। এরা হলেন: বিএনপির সোমনাথ দে, স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সদস্য কাজী খায়রুজ্জামান শিপন, ১০ দলীয় জোটের জামায়াতের অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ওমর ফারুক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির মো. আ. লতিফ খান এবং জাতীয় পার্টি-জেপি’র সাজন কুমার মিস্ত্রি।
বাগেরহাট জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, “মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে ছয়জন বৈধ প্রার্থী তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন। বর্তমানে জেলার চারটি আসনে মোট ২৩ জন বৈধ প্রার্থী রয়েছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে।”
কেকে/এলএ