ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর জেলার ছয়টি আসনে লড়ছেন ৩৫ প্রার্থী।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান নিজ কার্যালয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ এবং প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্ধ করেন। এসময় তিনি নির্বাচনি আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য প্রার্থী ও তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান।
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে আইনের প্রয়োগ করা হবে। এবছর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ২৪ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮, যা গত সংসদ নির্বাচনের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ছয়টি আসনে ৮২৪টি ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ কার্যক্রম সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক। জেলা প্রশাসক বলেন, “নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে কোনো ত্যাগ হচ্ছে না। আশা করছি এবারের নির্বাচন ব্যাপক উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। তরুণ ভোটাররা ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে উন্মুখ। প্রতিটি ভোট কেন্দ্র ও আশেপাশের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ টিম যশোর রাতদিন পরিশ্রম করছে।”
প্রার্থীদের তালিকা-
যশোর-১ (শার্শা): ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, বিএনপির নুরুজ্জামান লিটন (ধানের শীষ), জামায়াতের মাওলানা আজিজুর রহমান (দাড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বকতিয়ার রহমান (হাতপাখা)।
যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা): ৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, বিএনপির সাবিরা সুলতানা মুন্নি (ধানের শীষ), জামায়াতের ডাক্তার মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ (দাড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইদ্রিস আলী (হাতপাখা), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ইমরান খান (মঈ), বিএনএফ’র শামসুল হক (টেলিভিশন), এবি পার্টির রিপন মাহামুদ (ঈগল), স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা জহুরুল ইসলাম (ঘোড়া) ও মেহেদী হাসান (ফুটবল)। তবে জহুরুল ইসলাম ইতিমধ্যে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
যশোর-৩ (সদর): ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (ধানের শীষ), জামায়াতের ভিপি আব্দুল কাদের (দাড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির খবির উদ্দিন গাজী (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা শোয়াইব হোসেন (হাতপাখা), জাগপার নিজাম উদ্দিন অমিত (চশমা), সিপিবি’র রাশেদ খান (কাস্তে)।
যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর): ৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, অভয়নগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফারাজী মতিয়ার রহমান (ধানের শীষ), জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল (দাড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির এ্যাড. জহুরুল ইসলাম (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বায়েজিদ হোসাইন (হাতপাখা), খেলাফত মজলিসের মাওলানা আশেক এলাহী (দেওয়াল ঘড়ি), বাংলাদেশ মাইনোরিটি জনতা পার্টি-বিএমজেপি’র সুকৃতি মন্ডল (রকেট), সাবেক মন্ত্রী এম নাজিম উদ্দিন আল আজাদ (মোটরসাইকেল) – যিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী।
যশোর-৫ (মণিরামপুর): ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, বিএনপির নবাগত রশীদ বিন ওয়াক্কাস (ধানের শীষ), জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এ্যাড. গাজী এনামুল হক (দাড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির এম এ হালিম (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জয়নাল আবেদীন (হাতপাখা), মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. শহিদ মোহাম্মদ ইকবাল (কলস) – স্বতন্ত্র প্রার্থী।
যশোর-৬ (কেশবপুর): ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নেতা আবুল হোসেন আজাদ (ধানের শীষ), জেলা জামায়াতের নেতা অধ্যাপক মোক্তার আলী (দাড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির জি এম হাসান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শহিদুল ইসলাম (হাতপাখা), এবি পার্টির মাহামুদ হাসান (ঈগল)।
কেকে/এলএ