মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
শঙ্কা নিয়ে শুরু প্রচারণা
প্রণব আচার্য্য
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩৩ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তফসিল অনুযায়ী গতকাল বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। অবশ্য নির্বাচনি প্রচারণার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের মানতে হবে বেশ কিছু নির্দেশনা। দলীয় প্রথা মেনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করছেন সিলেট থেকে। আজ এ জনপদের সাত জেলায় প্রচারণা চালাবেন তিনি। অন্যদিকে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা থেকেই প্রচারণা শুরু করবেন। যদিও আগামীকাল থেকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলো সফর করবেন তিনি। আজ তিন নেতার মাজার (শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম) ও ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মাধ্যমে শুরু হবে এনসিপির নির্বাচনি প্রচারণা। সকাল ১০টা নাগাদ এ প্রচার কার্যক্রম শুরু করবেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

নির্বাচনের প্রচারণায় সংঘাতের শঙ্কা দেখছেন অনেকেই। বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি, রাজনৈতিক দলগুলো পেশিশক্তি, বিভিন্ন দলের প্রতিন্দ্বদ্বী প্রার্থীদের নিয়ে অসহনশীল আচরণ- এ শঙ্কাকে আরও জোরালো করছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ৭৯ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন ৯২ জন। অন্যদিকে জামায়াতের রয়েছেন একজন। নির্বাচনি প্রচারণার আগেই রাজনৈতিক সংঘর্ষে নিহতের ঘটনাও ঘটেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় তা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে গত কয়েকদিনের জনসংযোগ কয়েকজন প্রার্থীর উসকানিমূলক বক্তব্য জনমনে শঙ্কার জন্ম দিয়েছে।

গত মঙ্গলবার রাজধানীর পীরবাগে বিএনপি-জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে এ দুই দলের নেতাকর্মীরা প্রায়শই সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। এ ছাড়া গণঅভ্যুত্থানের পর সারা দেশের থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

প্রার্থীদের মানতে হবে সাতটি নির্দেশনা : সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে অনলাইন ও অফলাইন দুই মাধ্যমেই প্রচার চালাবেন প্রার্থীরা। তবে এ ক্ষেত্রে মানতে হবে বেশ কিছু নির্দেশনা। সেগুলো না মানলে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রার্থিতাও বাতিল হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইনে প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে একজন প্রার্থীকে সাতটি নির্দেশনা মানতে হবে।

একজন প্রার্থী তার নির্বাচনি এজেন্ট বা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে ফেসবুক বা অন্যান্য যেসব প্ল্যাটফর্মে প্রচার চালাবেন সেগুলোর নাম, আইডি, ই-মেইল ঠিকানা ইত্যাদি তথ্য আগেই রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। নির্বাচনি প্রচারে কোনোভাবেই অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণা ছড়ানো, ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো, কারও ছবি বিকৃতি করা বা ভুয়া কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, নারী, সংখ্যালঘু বা কোনো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কোনো রকম ঘৃণামূলক, উসকানিমূলক কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না। ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতিকে ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা যাবে না। নির্বাচনি স্বার্থে ধর্ম বা জাতির অপব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

সামাজিক মাধ্যমে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো পোস্ট বা তথ্য শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করা বাধ্যতামূলক। গুজব, বিভ্রান্তিকর পোস্ট কিংবা যাচাই না করা তথ্য প্রচার করা যাবে না। প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো দল, প্রার্থী বা তাদের সমর্থকরা কারও সুনাম নষ্ট বা চরিত্রহননের উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি, সম্পাদনা, প্রচার বা শেয়ার করতে পারবেন না। এসব ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করাও নিষিদ্ধ থাকবে।

এ ছাড়া অফলাইন বা সরাসরি প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো দল বা প্রার্থী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদেশে জনসভা, পথসভা, সভা-সমাবেশ বা কোনো প্রচার চালাতে পারবেন না। পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। একজন প্রার্থী তার সংসদীয় আসনে ২০টির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন না এবং এর দৈর্ঘ্য হবে সর্বোচ্চ ১৬ ফুট আর প্রস্থ ৯ ফুট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো প্রার্থী ও প্রতিষ্ঠান ভোটার স্লিপ বিতরণ করতে পারবেন। তবে ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি, পদের নাম ও প্রতীক উল্লেখ করতে পারবেন না। আলোকসজ্জার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ব্যানার, ফেস্টুন, লিফলেটে পলিথিনের আবরণ নয়, প্লাস্টিক (পিভিসি) ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না। ভোটের প্রচারে ড্রোন ব্যবহার করা যাবে না। একমঞ্চে ইশতেহার ঘোষণা ও আচরণবিধি মানতে প্রার্থী ও দলের অঙ্গীকারনামা দিতে হবে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের প্রতিটিতে নির্বাচনি অনিয়ম অনুসন্ধান ও অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিচারের জন্য ‘নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি’ গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন। এ ছাড়া পর্যাপ্তসংখ্যক আইনশৃঙ্খাবাহিনী মাঠে নামানো হবে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, কেউ যদি আচরণবিধি না মানলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মিরপুরে জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষ : রাজধানীর মিরপুরের পীরেরবাগে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার বিকেলে পীরেরবাগের ৬০ ফুট এলাকা এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকালে কয়েকজন নারী পীরেরবাগ এলাকার একটি বাসায় গিয়ে ভোটের প্রচার শুরু করেন। তারা নিজেদের জামায়াতের কর্মী পরিচয় দিয়ে ভোটের প্রচার চালান। বিষয়টি জানার পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে চার নারীকে আটকে রাখা হয়।

খবর পেয়ে আটকে পড়া নারীদের উদ্ধার করতে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লায় চৌদ্দগ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এর আগে গত শুক্রবার ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় ছুরিকাঘাতে খুন হন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক নজরুল ইসলাম।

লুট হওয়া অস্ত্র নিয়ে দুশ্চিন্তা : আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বেশির ভাগ থানা ও পুলিশ ক্যাম্পগুলোতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ হয়েছিল। তখন লুট হয়ে যায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ। যার মধ্যে রয়েছে টুয়েলভ বোর শটগান, চাইনিজ রাইফেল, পিস্তল ও সাবমেশিন গান (এসএমজি)। পুলিশের প্রতিবেদন বলছে, লুট হওয়া অস্ত্রের কিছু অংশ অবৈধভাবে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়টিই জননিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি করেছে।

লুট হওয়া অস্ত্রের বড় অংশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো উদ্ধার করতে পারেনি। ওইসব অস্ত্র দিয়ে এরই মধ্যে দুর্বৃত্তরা, দেশব্যাপী ছিনতাই-ডাকাতিসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। যে কারণে খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়েই চলেছে। ফলে আশঙ্কা আর অনিশ্চয়তা যেমন বাড়ছে, সরকারের জন্যও তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ মুহূর্তে দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘটছে বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। ফলে সরকারের পক্ষে দেশের সর্বত্র আইনশৃঙ্খলাকে শান্তিপূর্ণ রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে।

কেকে/ আরআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  প্রচারণা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close