মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর       কোনো রোগী যেন চিকিৎসার অভাবে দুর্ভোগে না পড়ে : সমাজকল্যাণমন্ত্রী      রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড়ে ককটেল বিস্ফোরণ      হামে প্রাণ গেল আরও তিন শিশুর, মোট মৃত্যু ৬৮৬      একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      
দেশজুড়ে
পীরগাছায় শিক্ষককে পদত্যাগের চাপ দিচ্ছেন ইউএনও
‎‎ মো. লাভলু মিয়া, পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:০১ পিএম
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

‎রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার পাঠক শিকড় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোশাররফ হোসেনকে দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করতে চাপ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও এর বিরুদ্ধে।

স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ইউএনও এই তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা অভিযোগ করেছেন। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
‎সরেজমিন পরিদর্শন ও শিক্ষক-কর্মচারীদের লিখিত আবেদন সূত্রে জানা গেছে, ৯নং কান্দি ইউনিয়নের পাঠক শিকড় গ্রামে অবস্থিত এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই স্থানীয় একটি স্বার্থান্বেষী মহলের নজরে ছিল। 

২০২৩ সালের ৫ জুলাই তৎকালীন প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র বর্মন অবসরে গেলে পদটি শূন্য হয়। সে সময় ম্যানেজিং কমিটি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষ সিনিয়র শিক্ষক অনিল চন্দ্র বর্মনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হওয়ার প্রস্তাব দেন। 

শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি লিখিতভাবে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ী সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মোশাররফ হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয়, যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দেয়।
‎শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবি, মোশাররফ হোসেন দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসন করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সেই স্বার্থান্বেষী মহল। অভিযোগ উঠেছে, ওই মহলটি বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবাশীষ বসাককে প্রভাবিত করে মোশাররফ হোসেনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে।

এরই অংশ হিসেবে গত (৪ জানুয়ারি) ইউএনও’র কার্যালয়ের অফিস সুপারের (ওএস) মাধ্যমে অনিল চন্দ্র বর্মনকে ডেকে নেওয়া হয়।
‎অনিল চন্দ্র বর্মন জানান, তিনি অনিচ্ছুক হওয়া সত্ত্বেও তার কাছ থেকে কৌশলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হওয়ার আবেদনপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।
‎ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘গত ১৩ জানুয়ারি ইউএনও মহোদয় আমাকে তার কার্যালয়ে ডেকে পাঠান। সেখানে আমাকে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়। আমার নিয়োগের বৈধতা ও বিভিন্ন কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়। বর্তমানে আমি ও আমার সহকর্মীরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি।’
‎অন্যদিকে অনিল চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘আমার বয়স হয়েছে, শরীরও ভালো না। চাকুরীর আর মাত্র দুই বছর আছে। আমি দায়িত্ব নিতে চাই না। কিন্তু আমাকে ইউএনও অফিসে ডেকে নিয়ে কাগজে সই করানো হয়েছে। আমি চাই মোশাররফ হোসেনই দায়িত্বে বহাল থাকুক।’
‎এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবাশীষ বসাকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন ‘অনিল চন্দ্র বর্মনের বক্তব্য সঠিক নয়। তিনি (অনিল বর্মন) মিথ্যা বলছেন।’
‎সরেজমিন বিদ্যালয়টি পরিদর্শন কালে দেখা যায়, শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা ইউএনও’র এই সিদ্ধান্তকে “হঠকারী” বলে অভিহিত করেছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে তারা মোশাররফ হোসেনকে বহাল রাখার দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 
কেকে/এমএফ


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close