কেরানীগঞ্জের আটিবাজার কুলচর গ্রামের তানহা আক্তার লামিয়া, একজন শান্ত ও পশুপাখিপ্রেমী তরুণী, কলেজের পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের খামার এবং পাখি-পশুপাখির যত্নে ব্যস্ত থাকতেন।
কিন্তু স্থানীয় ইন্টারনেট ব্যবসায়ী তানভীর আহমেদের সঙ্গে প্রেম গড়ে ওঠার পর তার জীবন বদলে যায়। পরিবারের অমতে ঘর ছেড়ে পালিয়ে তানভীরের সঙ্গে বিয়ে করলেও মাস খানেকের মধ্যেই মানসিক নির্যাতন ও নজরদারিতে তার স্বাভাবিক জীবন শেষ হয়ে যায়। বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, ১৬টি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে তানহা সবসময় তানভীরের নজরদারিতে ছিল এবং তাকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হত না।
তানহার বাবা বুলু মিয়া বলেন, “আমার মেয়ের ওপর পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছে। এটা কোনোভাবেই আত্মহত্যা হতে পারে না। তানভীর ও তার পরিবারই এই হত্যার সঙ্গে জড়িত। আমরা ন্যায়বিচার চাই।”
মা আয়েশা বেগম বলেন, “আমার মেয়েটি পশুপাখি ভালোবাসত, সহজে নিজের জীবন শেষ করতে পারে না। পুলিশ বলছে অপমৃত্যু, আমরা জানি এটা পরিকল্পিত খুন।”
প্রতিবেশীরাও বলছেন, বিয়ের পর তানহাকে আর আগের মতো দেখা যেত না এবং সিসি ক্যামেরার কঠোর নজরদারি অস্বাভাবিক ছিল।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম. সাইফুল আলম জানান, এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে এবং লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হবে এবং হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর মধ্য দিয়ে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে, এক চঞ্চল তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায়।
কেকে/এলএ