ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট টানতে বিতর্কিত কৌশলে প্রচারণা চালাচ্ছে জামায়াতে ইসলাম ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মী-সমর্থকেরা। এসব বিতর্কিত প্রচারণার ঘিরে জনমনে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করছেন নেটিজেনরা। একইসঙ্গে অভিযোগ তুলছেন প্রতিপক্ষ দলের প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকেরা।
অতিসম্প্রতি ১০ দলীয় জোটের কুড়িগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী এনসিপি নেতা ড. আতিক মুজাহিদের একটি পোস্টার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই পোস্টারে তিনি ইসলামী আন্দোলন ও চরমোনাই পীরের ছবি ব্যবহার করে নিজেকে ১১ দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদিও ১১ দলের আসন সমঝোতায় নেই চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন দল ইসলামী আন্দোলন। ফলে বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয় ইসলামী আন্দোলনের কর্মী-সমর্থকরা অভিযোগ করছেন এলাকার সহজ-সরল মানুষকে ভুল বুঝিয়ে হাতপাখার কর্মী-সমর্থকদের ভোট নিজেদের প্রতীকে টানতেই এ ধরনের অপকৌশল করছেন এনসিপির ওই নেতা।
স্থানীয় কাঠালবাড়ি ইউনিয়নের ইসলামী আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মো. ইকরামুল হক এক ভিডিও বার্তায় অভিযোগ করে বলেন ‘আমাদের কাঠালবাড়ি ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডেই আমাদের ওয়ার্কিং (কাজ) চলছে। এর মধ্যে আমাদের ১ নম্বর ওয়ার্ডে আমরা গেলে অনেকেই আমাদের জানান আপনারা তো ১১ দলীয়ভাবে কাজ করতেছেন, এককভাবে কোনো ভোট চাচ্ছেন। আতিক মুজাহিদ তো গতকাল আমাদের এখানে আসছিল, তিনিও বলেছেন আমরা ১১ দলের সঙ্গে আছি।’
এ সময় তিনি আতিক মুজাহিদের প্রচারকৃত ইসলামী আন্দোলন ও চরমোনই পীরের ছবি সম্বলিত পোস্টার তুলে ধরেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে কুড়িগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী এনসিপি নেতা ড. আতিক মুজাহিদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে রিসিভ না করায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখার প্রার্থী মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী বলে প্রচারণার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াত কর্মীদের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক সমালোচনা। এমন প্রচারণাকে ‘প্রতারণা’ হিসেবে অভিযোগ করছেন হাতপাখার কর্মীরা।
গত বৃহস্পতিবার হাতপাখার প্রার্থী মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক শরীফুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় স্থানীয় ভোটারদের এ ব্যাপারে সতর্ক করে বলেন, ‘অসংখ্য জায়গায় আমরা যাচ্ছি এবং মা-বোনদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারছি একটি দল (জামায়াত) হুজুরের (খালেদ সাইফুল্লাহ) মার্কা দাঁড়িপাল্লা বলে প্রচারণা চালাচ্ছে।’
এমন মিথ্যা প্রচারণা থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়ে হাতপাখার ওই সমর্থক জামায়াত নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্য বলেন, ‘হাতপাখার প্রার্থীকে দাঁড়িপাল্লা বলে আপনার যে প্রচারণা করছেন, এটা চরম মিথ্যাচার ও ধোঁকাবাজি। আপনারা আল্লাহকে ভয় করেন এবং মিথ্যা প্রচারণা বাদ দিয়ে নিজের দল ও প্রতীকের প্রচার করেন।’
উল্লেখ্য, প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা। সারা দেশে ২৯৮টি নির্বাচনি এলাকায় মোট ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই প্রচারণা চলবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত। অর্থাৎ ভোটগ্রহণ শুরুর পূর্ববর্তী ৪৮ ঘণ্টা আগে সকল প্রকার নির্বাচনি প্রচারণা সমাপ্ত করতে হবে। তবে প্রচারণার ক্ষেত্রে প্রার্থীরা ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫’ মেনে চলতে বাধ্য থাকবেন।
নির্বাচন কমিশনের আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, প্রচারণার ক্ষেত্রে সকল প্রার্থী সমান অধিকার পাবেন। তবে প্রতিপক্ষের জনসভা, শোভাযাত্রা বা কোনো প্রচারাভিযানে বাধা প্রদান, ভীতি সঞ্চার বা বিশৃঙ্খলা করা যাবে না। প্রচারণার কর্মসূচির প্রস্তাব আগেভাগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে, যাতে তারা প্রয়োজনে একাধিক প্রার্থীর কর্মসূচির মধ্যে সমন্বয় করতে পারেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
কেকে/ এমএস