মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬,
৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধান করে সংবিধান সংশোধন কমিটি, বিরোধীদের ওয়াকআউট      তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে, বন্যার শঙ্কা      ৯ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা      সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা      বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
নবীনগরে হলুদ চাষে কৃষক জামিরের সাফল্য
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের নাটঘর ইউনিয়নের একইছড়া গ্রামের কৃষক জামিরের ফল বাগানের অব্যবহৃত ছায়াযুক্ত জমিতে হলুদ চাষ করে যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন, তেমনি এলাকার কৃষকদের সামনে খুলে দিয়েছেন নতুন একটি সম্ভাবনাময় পথ।

উপসহকারী কৃষি অফিসার ফারুক আহমেদের পরামর্শে ‘ফ্ল্যাড রিকনস্ট্রাকশন ইমারজেন্সি এসিস্ট্যান্স প্রজেক্টের’ আওতায় জামির তার মিশ্র ফল বাগানে বারি হলুদ-১ জাতের হলুদ চাষ করেন। সাধারণত ফল গাছের নিচের ছায়াযুক্ত জমি অব্যবহৃত থাকে সেখানে হলুদ চাষ করে তিনি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করেন। মাত্র ১৫ শতাংশ জমিতে হলুদ আবাদ করে প্রায় ২০ মণ কাঁচা হলুদ উৎপাদন করতে সক্ষম হন জমির।

বর্তমানে বাজারে কাঁচা হলুদ কেজি ৬০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ায় এ আবাদ থেকে তার আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা। তুলনামূলক ভাবে কম খরচে হওয়ায় আয় এ চাষ কৃষকের জন্য অত্যন্ত লাভজনক হয়ে উঠেছে।

কৃষক জামির জানান বাবা হিরণ মিয়ার আগ্রহে এবং উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে গত মার্চ মাসে ১৫ শতাংশ জমিতে প্রায় ৬০ কেজি হলুদের বীজ রোপণ করেন। দশ মাস পর সেই পরিত্যক্ত জায়গা থেকেই উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৮০০ কেজি কাঁচা হলুদ। 

ফলবাগান থেকে ফল আহরণের পাশাপাশি ছায়ায় হলুদ ভালো ফলন হওয়ায় আশপাশের অনেক কৃষক এ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

উপসহকারী কৃষি অফিসার ফারুক আহমেদ বলেন, ‘ছায়াযুক্ত ফল বাগানে হলুদ ও আদা চাষের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। আদা ও হলুদ আংশিক ছায়া সহনশীল ফসল হওয়ায় আম, লিচু, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলবাগানে সহজেই এ ফসল চাষ করা যায়। এতে একই জমি থেকে একাধিক ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়, যা কৃষকের মোট আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, ‘মিশ্র ফল বাগানে আদা ও হলুদ চাষ কৃষকদের জন্য একটি টেকসই ও লাভজনক প্রযুক্তি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এমন ফসল নির্বাচন জরুরি, যা কম ঝুঁকিতে ভালো ফলন দিতে পারে। জামির মিয়ার সাফল্য প্রমাণ করে সঠিক ব্যবস্থাপনায় ছায়াযুক্ত জমিও আয়বর্ধক সম্পদে পরিণত করা সম্ভব।’

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নবীনগর উপজেলায় পরিত্যক্ত ও ফল বাগানের ছায়াযুক্ত জমিতে প্রায় ১৫ বিঘা এলাকায় আদা ও হলুদ চাষ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্প সম্প্রসারণ করা হলে একদিকে কৃষকের আয় বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে দেশীয় মসলার উৎপাদন বাড়বে। ফলে আমদানি নির্ভরতা কমে কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কেকে/এমএফ


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close