মাত্র চার দিনের মাথায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে প্রতিবন্ধী অটোচালক সোহেল হত্যা মামলার পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেফতারদের মধ্যে দুজন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত এবং বাকি তিনজন হত্যার পর লুট করা অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি জানান, অটোরিকশা লুটের উদ্দেশ্যেই চালক সোহেলকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে স্কচটেপ পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। অটোরিকশা ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় তাকে হত্যার পর সেটি লুট করে নিয়ে যায় ঘাতকরা।
পুলিশ সুপার আরও জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সুজন মিয়া (৩৩) ও শফিকুল ইসলাম হীরা (৩৯) কে গ্রেফতার করা হয়। পরে লুট করা অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত দুলাল (৪৫), আব্দুর রহিম মিয়া (৫৫) ও আবুল কাশেম (৪০) কে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় লুট হওয়া অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ বলেন, “আসামি সুজন ও শফিকুল ইসলাম হীরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তবে গ্রেফতার পাঁচজনই অটোরিকশা ছিনতাই ও কেনাবেচা চক্রের সদস্য। যাদের কাছ থেকে অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে।”
উল্লেখ্য, গত ২০ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের নয়াপুর পশ্চিমপাড়া এলাকা থেকে স্কচটেপ মোড়ানো অবস্থায় প্রতিবন্ধী অটোচালক সোহেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত সোহেল ওই এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে। তার স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তান রয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মহাসিন মিয়া বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নিহত সোহেলের স্ত্রী রাজিয়া আক্তার জানান, তাদের বড় মেয়ে লামিয়া নবম শ্রেণির এবং ছোট মেয়ে সুরাইয়া তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
কেকে/এলএ