মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার আলোচিত ল্যাব টেকনিশিয়ান রতন আহমেদ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সিএনজিটি জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলার আনন্দনগর এলাকার মৃত মিলন মিয়ার ছেলে রোহান (২২) ও একই উপজেলার নয়ামাটি এলাকার নিজাম পলকের ছেলে মাহিন (১৯)।
গজারিয়া থানা সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর একটি সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ। ফুটেজে সিএনজির নম্বর স্পষ্ট না হওয়ায় প্রাথমিক জটিলতা তৈরি হলেও দীর্ঘ তদন্তের পর অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। অভিযুক্ত তিনজনের মধ্যে দুইজন পার্শ্ববর্তী কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় একটি ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিল। ওই মামলায় জামিন পাওয়ার পর তাদের ল্যাব টেকনিশিয়ান রতন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গত বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঘটনার দিন রাতে মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় ছিনতাইকারী রোহান একটি সিএনজি নিয়ে অপেক্ষমাণ ছিল। যাত্রীবেশে মাহিনসহ তার দুই সহযোগী সিএনজির ভেতরে ছিল। রাত সাড়ে দশটার দিকে রতন আহমেদ ওই সিএনজিতে উঠলে সেটি ভাটেরচরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথিমধ্যে বালুয়াকান্দি মিয়ামী ডাইন রেস্টুরেন্টের সামনে রতনের টাকা ও মোবাইল কেড়ে নিয়ে তাকে সিএনজি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।
রতন পুনরায় দৌড়ে সিএনজিতে ওঠার চেষ্টা করলে ছিনতাইকারীরা তাকে কুপিয়ে ভাটেরচর ব্রিজ এলাকায় ফেলে রেখে যায়।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রতনের পিতা আব্দুল জলিল কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘রতনের কাছে বেশি টাকা থাকতো না। সামান্য একটি মোবাইলের জন্য এমন হত্যাকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না। সে আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিল। আমি দোষীদের ফাঁসি চাই।’
গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, ‘এটি একটি ক্লুলেস ঘটনা ছিল। দীর্ঘ তদন্ত ও কঠোর পরিশ্রমের পর আমরা অপরাধীদের নাগাল পেয়েছি। অভিযুক্ত তিনজনের মধ্যে দুজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধ স্বীকার করেছে।
বছরের ১২ নভেম্বর দিবাগত রাত এগারোটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভাটেরচর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ল্যাব টেকনিশিয়ান রতন আহমেদ (২২)-কে কুপিয়ে হত্যা করে ছিলো দুর্বৃত্তরা।
কেকে/এমএফ