বর্ণিল পথ আলপনা, আনন্দ শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও কেক কাটা, পিঠা উৎসব, বিভিন্ন বিভাগীয় পিঠা স্টল ও আলপনা পরিদর্শন, পোস্টার প্রেজেন্টেশন, জুলাই কর্ণার উদ্বোধন, দেশীয় লোকসংগীত পরিবেশনসহ নানা আয়োজনে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ জাতীয় পতাকা এবং রিজেন্ট বোর্ডের সম্মানিত সদস্য অধ্যাপক ড. এইচ. এম. জাকির হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচির শুভসূচনা করেন।
সকাল ১০টা ৩০মিনিটে প্রধান ফটক থেকে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু হয়। শোভাযাত্রা শেষে আলোচনা সভা, বেলুন উড়ানো ও কেক কাটার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন যবিপ্রবির মাননীয় উপাচার্য।
এরপর যবিপ্রবি উপাচার্য এবং গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখরসহ উপস্থিত অন্যান্য অতিথিবৃন্দ জুলাই কর্ণার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে যবিপ্রবি উপাচার্য বিভিন্ন বিভাগের পিঠা উৎসবের স্টল, পথ আলপনাসমূহ ও পোস্টার প্রেজেন্টেশন পরিদর্শন করেন। স্টলগুলোতে নানা ধরনের, বাহারি আকৃতি ও ঋতুভিত্তিক বৈচিত্র্যের সুস্বাদু পিঠার পসরা দেখে সবাই মুগ্ধ হন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ বলেন, “যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আকার ও বয়স তুলনামূলক কম হলেও এই বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। শিক্ষা ও গবেষণায় দেশের অনেক প্রবীণ বিশ্ববিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে বিশ্ব র্যাংকিংয়ে সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছে যবিপ্রবি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে অত্যাধুনিক গবেষণাগার, আধুনিক আবাসন ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার উপযোগী সুন্দর পরিবেশ এবং ক্রীড়া চর্চার জন্য দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জিমনেসিয়াম।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিতে জমি অধিগ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বরাবর ডিপিপি জমা দেওয়া হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গবেষণার উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে যে জমির প্রয়োজন, সরকার তা পূরণ হবে।’’
ড. মো. আব্দুল মজিদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় দিবস সফলভাবে উদযাপনে শিক্ষার্থীরা দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে আলপনা, পিঠা স্টল ও অন্যান্য আয়োজনের মাধ্যমে যে ভূমিকা রেখেছে, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। গবেষণার পাশাপাশি বিভিন্ন কারুকার্য ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এই বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের মধ্য দিয়ে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।”
ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. রাফিউল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবি রিজেন্ট বোর্ডের সম্মানিত সদস্য অধ্যাপক ড. এইচ. এম. জাকির হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. ওমর ফারুক, সহযোগী অধ্যাপক ড. মোছা. আফরোজা খাতুন, ডিনস কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. কোরবান আলী, ডিন অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. এস. এম. নূর আলমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, চেয়ারম্যান, দপ্তরপ্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শাহনূর রহমান।
বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অতিথি শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
কেকে/এলেএ