মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
খানসামায় শিক্ষার্থীর মাথায় বলপেন নিক্ষেপের অভিযোগ
খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:০৪ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

শিক্ষালয় কি শিক্ষার নিরাপদ স্থান, নাকি ভয়ের ঠিকানা—এমন প্রশ্ন তুলেছে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার একটি ঘটনা। উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের বালাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মাথায় বলপেন নিক্ষেপ করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষক কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিদ্যালয় ও এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, ক্লাস চলাকালীন সময়ে সহকারী শিক্ষক কামরুল হাসান একটি বলপেন তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জিনাত মাহবুবার মাথায় ছুড়ে মারেন। এতে শিশুটি গুরুতর আহত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং শ্রেণিকক্ষে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহত অবস্থায় শিশুটিকে প্রাথমিকভাবে শ্রেণিকক্ষেই রাখা হয় এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে শিক্ষক তাকে সেখানে থাকতে বাধ্য করেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার জানায়, পরে তারা আহত জিনাতকে খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে পরিবারের অভিযোগ, গুরুতর আঘাত থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত শিক্ষক জোরপূর্বক শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি না করিয়ে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে নেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের একজন বলেন, “একজন শিক্ষক কীভাবে এমনভাবে একটি শিশুর ওপর হাত তুলতে পারেন? আমাদের মেয়েটি এখনও আতঙ্কে আছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই।”

ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, “যদি শিক্ষকের হাতেই শিশুরা নিরাপদ না থাকে, তাহলে সন্তানদের স্কুলে পাঠাব কীভাবে?” এ ঘটনায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সমাজকর্মী ও শিশু অধিকার সংস্থার প্রতিনিধিরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। তাদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ ঘটনায় পুরো খামারপাড়া ইউনিয়নে চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। অনেকেই মনে করছেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, যা এই ঘটনায় মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক কামরুল হাসানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে খানসামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির তালুকদার বলেন, “অভিযোগটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “শিশু সুরক্ষা আইন থাকা সত্ত্বেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ এবং এরকম ঘটনায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

অভিভাবকরা দাবি করেন, বিদ্যালয় শুধু পাঠদানের জায়গা নয়—এটি শিশুদের মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রও হতে হবে। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

কেকে/ আরআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  খানসামা   শিক্ষার্থী   অভিযোগ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close