রোববার, ২ আগস্ট ২০২৬,
১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ২ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ      ঢাবিতে ভর্তি আবেদন ১১ নভেম্বর থেকে, পরীক্ষা শুরু ৫ ডিসেম্বর      সব বেসরকারি দাখিল-আলিম মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটি বাতিল      ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৭০ টাকা      ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু      দুবাইয়ের জেল থেকে মুক্তি পেলেন বেনজীর      ঢাকার চারপাশের নৌ-পথ সচলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর      
দেশজুড়ে
সবাই নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত, কেউ আমাদের খোঁজ নিচ্ছে না : জুলাই শহীদের স্ত্রী
জিল্লুর রহমান রাসেল, হাতিয়া (নোয়াখালী)
প্রকাশ: রোববার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:০৭ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও অর্থের অভাবে থমকে গেছে শহীদ রিটনের শিশু সন্তানের চিকিৎসা। চার দিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকলেও এখনো আশানুরূপ উন্নতি হয়নি তার শারীরিক অবস্থার। প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনার মতো অর্থ না থাকায় চরম উৎকণ্ঠা আর অসহায়ত্বে দিন কাটছে শিশুটির মায়ের।

শিশুটির নাম তানিশা বেগম। সে জুলাই অভ্যুত্থানে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে নিহত রিটনের কন্যা। তাদের বাড়ি নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চরকিং ইউনিয়নের ২২ নম্বর গ্রামে। বর্তমানে তানিশা হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলার পশ্চিম পাশের একটি কক্ষে ভর্তি রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ডায়রিয়ায় মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হলে তানিশাকে হাসপাতালে আনা হয়। শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হলেও প্রথম দুই দিন শয্যার অভাবে হাসপাতালের বারান্দায় থাকতে হয় তাকে। পরে একটি শয্যা জোটে। চার দিন ধরে চিকিৎসা চললেও শিশুটির শারীরিক অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। বাড়ি থেকে যে সামান্য টাকা আনা হয়েছিল, তা ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে ওষুধ কেনার মতো টাকাও নেই পরিবারের হাতে।

হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমান চন্দ্র আচার্য জানান, শহীদ রিটনের শিশুসন্তানটি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসে। তখন তার অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। দ্রুত ভর্তি দিয়ে চিকিৎসা শুরু করা হয়েছে। এখন অনেকটা উন্নতির দিকে রয়েছে।

রিটনের মামা জুয়েল জানান, চার দিন আগে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় শিশুটির মা একাই তাকে নিয়ে হাসপাতালে আসে। তাদের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। এরপরও পাশের একটি দোকান থেকে বাকিতে কিছু ওষুধ এনে দিয়েছি। কিন্তু টাকার অভাবে ঠিকমতো চিকিৎসা করানো যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত কেউ কোনো সহযোগিতা করেনি।

শিশুটির মা শহীদ রিটনের স্ত্রী আফসানা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 

‘সবাই এখন নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। কেউ আমাদের খোঁজ নিচ্ছে না। অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে প্রায় অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছি। খাবার কিনলে ওষুধ কেনা যায় না, আবার ওষুধ কিনলে খাবার জোটে না।”

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘সবাই আমাদের নিয়ে রাজনীতি করে। জুলাই শহীদদের পরিবারকে সরকার অনেক কিছু দেবে এমন আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে আমরা কিছুই পাইনি। এখন সংসার চালানোই কঠিন হয়ে গেছে। অসুস্থ শ্বশুর-শাশুড়ি নিয়ে আমি একাই সংসারের একমাত্র ভরসা।’

আফসানা বেগম জানান, আগে তাদের সংসার চলতো স্বামী রিটনের পাঠানো টাকায়। রিটন ঢাকায় একটি মুদি দোকানে চাকরি করতেন। তার আয়ে পরিবার মোটামুটি ভালোভাবেই চলছিল। কিন্তু রিটনের মৃত্যুর পর পুরো সংসারের ভার এসে পড়েছে আফসানার কাঁধে। কোনো স্থায়ী আয় না থাকায় প্রতিদিনের জীবনযাপনই এখন বড় সংগ্রামে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, একজন শহীদের পরিবার হয়েও আজ চিকিৎসার অভাবে শিশুসন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে অসহায় অবস্থায় দিন কাটানো অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত সরকারি সহায়তা ও মানবিক সহযোগিতা না পেলে শিশুটির চিকিৎসা নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হতে পারে। 

মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত   খোঁজ   জুলাই শহী   স্ত্রী  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close