এক সময় ছিনতাইকারী হিসেবে পরিচিতি, পরে মাদক ব্যবসা এবং শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ক্ষমতার ছত্রছায়ায় সাভারের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার—এই পুরো অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়েছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মো. বিল্লাল ওরফে ফান্টু বিল্লালকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সাভার পৌরসভার মজিদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত বিল্লাল সাভার পৌরসভার মজিদপুর ছোট বলি মেহের এলাকার বাসিন্দা আব্দুল গনির ছেলে। তিনি সাভার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ও সক্রিয় সদস্য ছিলেন।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় যুগ ধরে বিল্লাল সাভার পৌরসভার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদক নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন। তার হাত ধরেই এলাকায় একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকায় এতদিন তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বিল্লাল সাভার পৌরসভার সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে কারাগারে থাকা রুবেল মন্ডলের ঘনিষ্ঠ ক্যাডার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই সম্পর্কই তাকে এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে চালানোর সুযোগ করে দেয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ক্ষমতার পালাবদলের পরও বিল্লাল নিজের অবস্থান ধরে রাখতে কৌশল পরিবর্তন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তিনি ভোল্ট পাল্টে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ছত্রছায়ায় নতুন করে মাদক নিয়ন্ত্রণ শুরু করেন। তবে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার সেই কৌশল ব্যর্থ হয়।
গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানায়, বিল্লাল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংক্রান্ত দুটি মামলার এজাহারনামীয় আসামিসহ মোট তিনটি মামলায় অভিযুক্ত।
ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বিল্লাল এলাকায় বিপুল পরিমাণ মাদকের সিন্ডিকেট পরিচালনা করতেন। তাকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।”
এদিকে, বিল্লাল গ্রেপ্তারের খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও মাদক সংশ্লিষ্ট চক্রে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, এই গ্রেপ্তার যদি ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে, তবে সাভার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা গোপন মাদক সাম্রাজ্যে বড় ধরনের ভাঙন সৃষ্টি হবে।
কেকে/ আরআই