জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক হিন্দু নারীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠেছে আব্দুর রহিম নামে চোরের বিরুদ্ধে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে উপজেলার পুনট ইউনিয়নের হাটশেখা হিন্দু পল্লীতে এ ঘটনা ঘটে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে ওই নারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
ভুক্তভোগী রঞ্জনা বর্মণ হিন্দু পল্লীর মনোরঞ্জন বর্মণের সাবেক স্ত্রী।
অভিযোগ সূত্র ও সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, শনিবার বিকালে হাটশেখা হিন্দু পল্লীর স্বামী পরিত্যক্ত এক সন্তানের জননী রঞ্জনা বর্মণ বাড়ীর পাশের মাঠের মধ্যে গরুর গোবরের ঘুঁটি নিতে যায়। এ সময় পাশের ইমামপুর গ্রামের আলতাব হোসেনের ছেলে আব্দুর রহিম তার হাত ধরে টানা-হেঁচড়া করতে থাকে। তখন রঞ্জনা চিৎকার করতে করতে হাতে থাকা ঝাড় দিয়ে আব্দুর রহিমকে ২-৩ বার আঘাত করে। পরে পল্লীর লোকজন এগিয়ে আসলে আব্দুর রহিম চলে যান।
এ ঘটনার জেরে রাত সাড়ে আটটার দিকে আব্দুর রহিম ১১-১২ জন লোককে সাথে নিয়ে হাটশেখা হিন্দু পল্লীতে এসে রঞ্জনার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
প্রতিবেশী সোনালী বর্মণ বলেন, ‘অনেক দিন ধরে রহিম কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছে রঞ্জনাকে। ওর মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার পথে রহিম প্রায় সময় রাস্তাতে বাঁধা দেয়। রহিমের ভয়ে রঞ্জনা আজকে তার মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যেতে পারেনি। গত রাতে রহিম যেভাবে লোকজন নিয়ে হামলা করেছে, তাতে পল্লীর সবাই ভয় পেয়েছে। সারারাত কেউ ঘুমাতে পারেনি। আমরা হিন্দু পরিবার। একেবারে অসহায় হয়ে পড়েছি। ওই সময় মুসলমানেরা এগিয়ে না আসলে পুরো পরিবারকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারত রহিম।’
রঞ্জনা বর্মণ বলেন, ‘স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ির পর সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিই। এরপর মেয়েকে এলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেই। প্রতিদিন মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে রহিম আমাকে উত্ত্যক্ত করত। মানসম্মান হারানোর ভয়ে তাকে কিছুই বলিনি। শনিবার যখন আমি মাঠের মধ্যে গরুর গোবরের ঘুঁটি নিতে যাই, তখন সে পিছন থেকে এসে আমার হাত ধরে টানা-হেঁচড়া করতে থাকে।’
আমি ওর হাত থেকে বাঁচতে চেষ্টা করার পাশাপশি চিৎকার করতে থাকি। একপর্যায়ে রহিম আমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাত দিতে থাকলে পাশে পড়ে থাকা ঝাড় দিয়ে ২-৩টি আঘাত করেছি। রাতে আবার রহিম লোকজন নিয়ে এসে বাড়িতে ঢুকে টিনের বেড়া ও ঘরের ছাউনি ভাংচুর করেছে। আবার সবাইকে পুড়িয়ে মারার হুমকিও দিয়েছে। আমি সকালে থানায় অভিযোগ করেছি।ৎ
অভিযুক্ত আব্দুর রহিম বলেন, ‘আমাকে ঝাড় দিয়ে মারার কারণে বিচার নিতে রাতে লোকজন নিয়ে রঞ্জনাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। ভাংচুর ও ভয়ভীতির অভিযোগ সত্য নয়।’
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এমএ