শীতের আমেজে কুয়াশার চাদরে ঢাকা প্রকৃতি, শিশিরে সিক্ত ঘাস আর মিষ্টি রোদ— পিঠার ঘ্রাণে মুখর নাগেশ্বরী, আনন্দে ভাসল আল কাওছার মেরিট মাদরাসা। এই সময়েই গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী শীতকালীন পিঠা বাঙালির জীবনে এনে দেয় আলাদা আনন্দ। বাঙালির লোকসংস্কৃতি ও খাদ্যঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ এই পিঠাকে ঘিরে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে আল কাওছার মেরিট মাদরাসা।
নাগেশ্বরী কলেজ মোড়সংলগ্ন মাদরাসা প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী আয়োজিত শীতকালীন পিঠা উৎসবে ১০টি স্টলে বাহারি সাজে প্রদর্শিত হয় নানা রকম ঐতিহ্যবাহী পিঠা। উৎসবে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। আনন্দঘন পরিবেশে স্মৃতি ধরে রাখতে অনেকেই ছবি তোলেন। উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো মাদরাসা ক্যাম্পাস।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, অন্তত পাঁচশ’ বছর আগে থেকেই বাঙালির খাদ্যতালিকায় পিঠার উপস্থিতি রয়েছে। পুরোনো লোকগাঁথা ও গল্পে উঠে এসেছে নানা পিঠার নাম। ভাজা, ভাপা, দুধে ভেজানো কিংবা শুকনো—স্বাদের বৈচিত্র্যে পিঠা অনন্য। উৎসবে চিতই, ভাপা, পুলি, ছিটা, পাটিসাপটা, ঝিনুক, লাভ পিঠা, লবঙ্গ লতিকা, নকশি, গোকুল, সেমাই পিঠাসহ নানা ধরনের পিঠা দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
মেলায় ঘুরতে আসা চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহজাবিন, পঞ্চম শ্রেণির আল-আমিন ও রাইয়ান জানায়, তারা আগে কখনও পিঠা মেলা দেখেনি। এখানে এসে নাম না জানা বিভিন্ন পিঠার স্বাদ নিতে পেরে তারা খুবই আনন্দিত।
মাদরাসার শিক্ষক মাসুদা খাতুন রুম্পা বলেন, “আমি এই উৎসব উপলক্ষে ১০ ধরনের পিঠা তৈরি করে স্টলে বিক্রি করেছি। সব পিঠাই বিক্রি হয়ে গেছে। এর আগে কখনও এভাবে পিঠা বিক্রির অভিজ্ঞতা হয়নি। বিক্রির পাশাপাশি দারুণ আনন্দ পেয়েছি।”
মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ মো. মহিবুর রহমান ও অভিভাবক জাহাঙ্গীর বাদশা টুটুল জানান, এই ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মননশীলতার বিকাশ ঘটানোর পাশাপাশি সুস্থ বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করে। তারা চান, এমন উদ্যোগ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ুক।
আল কাওছার মেরিট মাদরাসার পরিচালক মাওলানা মো. জোনায়েদ হোসেন বলেন, “বাঙালির ঐতিহ্য রক্ষা, সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা ও বিনোদনের পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মকে নানা ধরনের পিঠার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই আমাদের এই আয়োজন। এতে শিক্ষার্থীরা আমাদের পুরনো ঐতিহ্যকে ধারণ করবে এবং পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হবে।”
কেকে/এমএফ