মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
রাজনীতি
সংঘাতের রাজনীতি শুরু
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:২৭ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র বাকি ১৭ দিন। সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জোরালো হচ্ছে রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। সীমিত সময়ের মধ্যে ভোটারদের কাছে নিজের উপস্থিতি ও প্রতীক পরিচিত করতে মাঠে নেমেছেন প্রার্থীরা। তবে এই প্রচার-প্রচারণাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান ও সংঘর্ষের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিশেষ করে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের আগ্রাসী আচরণ উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারি, হাতাহাতি এবং কোথাও কোথাও অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনাও ঘটছে। পাশাপাশি ভোটের মাঠে ধর্মীয় বয়ান ও উত্তেজনাকর বক্তব্য বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেক ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, সহিংসতার ঝুঁকিও তত বাড়বে। তৃণমূলে প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের অসহিষ্ণু আচরণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর ভূমিকার অভাবে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এ অবস্থায় প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকদের সহনশীলতা বাড়ানো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নির্বাচন কমিশনের আরও জোরালো ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

লালমনিরহাটে জামায়াতÑবিএনপির সংঘর্ষে আহত ২০ : লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় নির্বাচনি প্রচারণা ও গণসংযোগককে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একে অপরকে দোষারোপ করেছে দুই দল। গতকাল রোববার বিকালে হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেডিকেল মোড়-সংলগ্ন কসাইটারী এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান রাজীব প্রধান। একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট আনোয়ারুল ইসলাম রাজু। রোববার বিকালে ওই এলাকায় দুই প্রার্থীর সমর্থকদের পৃথক গণসংযোগ চলাকালে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হন।

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজু জানান, সংঘর্ষের কারণ এবং আহতদের সংখ্যা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের ঘটনাস্থল থেকে তথ্য সংগ্রহ করার অনুরোধ জানান। তবে সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে বিএনপির প্রার্থী হাসান রাজীব প্রধানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

জেলা পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, নির্বাচনি প্রচারণার সময় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিষয়টি নির্বাচনি আচরণবিধির আওতায় পড়ায় আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চুয়াডাঙ্গায় জামায়াতের নারী কর্মীরা হেনস্তার ঘটনায় সংঘর্ষ : চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীরা হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের যুগীরহুদা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেলের পক্ষে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নারী নেতাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাচ্ছিলেন। এ সময় এলাকার কয়েকজন বিএনপির নারী কর্মী তাদের প্রচারণায় বাধা দেন এবং হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

পরবর্তীতে বিএনপির পুরুষ কর্মীরাও ঘটনাস্থলে এসে জামায়াতের নারী কর্মীদের গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জামায়াতের আরও নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

জামায়াতের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দাওয়াতি কার্যক্রমে অংশ নেওয়া নারী কর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও মারধর করা হয়েছে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানি ইসরাইল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এর আগে ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে বিএনপি মনোনীত ও বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রকাশ্য গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে। এতে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১০ জন। গত বুধবার সন্ধ্যায় গফরগাঁও পৌর শহরের ইসলামিয়া স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন সাবেক ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সোহাগ। বাকিদের পরিচয় জানা যায়নি।

বিএনপির নেতাকর্মী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এদিন বিকালে প্রতীক পাওয়ার পর শোভাযাত্রা করার জন্য বিএনপির প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাচ্চুর অপেক্ষায় পৌর শহরের ইসলামিয়া স্কুলের সামনে অবস্থান করছিলেন তার সমর্থকরা। এ সময় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এবি সিদ্দিকুর রহমানের সমর্থকরা হাঁস প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থল এলাকায় যান। দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়ে পড়লে উত্তেজনার একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়।

এ সময় প্রকাশ্য গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকটি জায়গায় অগ্নিসংযোগ করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বন্ধ রয়েছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

বিএনপির প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, ‘আমার দলের নেতাকর্মীদের ওপর প্রকাশ্যে গুলি করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হামলা করা হয়েছে। এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এবি সিদ্দিকুর রহমান। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এবি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘প্রতীক পাওয়ায় আমার ১০ হাজার সমর্থক মিছিল করেছে। আমি গাড়িতে ছিলাম। আমরা কারও ওপর হামলা করিনি।’

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল আল মামুন বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেকে/এমএফ




মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

রাজনীতি- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close