কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দায়িত্বে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাসহ সমর্থকদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ উঠেছে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আলাউদ্দিন এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা লিটু আহমেদের বিরুদ্ধে।
বঞ্চিতদের দাবি, সঠিক যাচাই-বাছাই না করে মৃত ব্যক্তি ও আওয়ামী লীগের পদধারী শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের নির্বাচনে ভোটগ্রহণের জন্য তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক সাংবাদিকদের জানান, বিগত নির্বাচনগুলোতে নিরপেক্ষ শিক্ষকদের ভোট গ্রহণের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তারা আরও বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে দেশ ফ্যাসিস্ট থেকে মুক্ত হয়। কিন্তু সরকার ঘোষিত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী পন্থি পদধারী এবং মতাদর্শী শিক্ষক ও দপ্তরের কর্মকর্তাদের এ নির্বাচনে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা দাবি করেন, তদন্তের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের ভোট গ্রহণের দায়িত্ব দেওয়া হোক।
ভোটগ্রহণের পোলিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তার চূড়ান্ত তালিকা অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের মধ্যে ৪০০ জনে ৫০ জন আওয়ামী লীগের পদ ও সমর্থক রয়েছেন।
তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম হলো:
ব্যাচ-৭, ক্রমিক ৪১, আনিসুর রহমান: উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও রৌমারী সিজি জামান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
ব্যাচ-১০, ক্রমিক ৪১, সিরাজুল ইসলাম: যাদুরচর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও যাদুরচর মহিউস্ সুন্নাহ আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক।
ব্যাচ-৪, ক্রমিক ৮, মো. ফুল মিয়া: যাদুরচর ইউনিয়ন যুবলীগের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সহসভাপতি ও কুটিরচর স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক।
প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের মধ্যে ৬৬ জনের মধ্যে ১৫ জন আওয়ামী লীগ পদধারী-সমর্থক। উল্লেখযোগ্য নাম:
ব্যাচ-১, ক্রমিক ১২, মির্জা রকিম আহমেদ: উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং সোনালী ব্যাংক কর্তিমারী শাখায় কর্মরত।
ব্যাচ-২, ক্রমিক ১, মিজানুর রহমান: যাদুরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য এবং কোমরভাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
পোলিং কর্মকর্তাদের মধ্যে ৭৮৮ জনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম:
ব্যাচ-২২, ক্রমিক ৩০, সানোয়ার হোসেন: উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নতুন বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
ব্যাচ-১৩, ক্রমিক ৮, সাদিকুল ইসলাম: স্বাস্থ্য সহকারী ও দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
তালিকায় আরও শতাধিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদধারী ও সমর্থক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইতোমধ্যেই তাদের ভোটগ্রহণের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে এবং চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা লিটু আহমেদ জানান, নির্বাচনে ভোটগ্রহণের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তাদের নাম বললে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে কারও কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হয়নি; যারা অভিযোগ করছেন, তা মিথ্যা।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের রৌমারী উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও আলাউদ্দিন বলেন, “তালিকা প্রকাশ করেছে উপজেলা নির্বাচন অফিসার। এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত জানি না।”
কেকে/এলএ