প্রাচীনকাল থেকে মরিচ্যাচর গ্রামটি ইতিহাস বহন করে আসছে। ঐতিহাসিক সম্রাট শাহসুজা সড়ক এই গ্রামের মাঝখান দিয়েই অতিক্রম করেছে। বর্তমানে সম্রাট শাহসুজা সড়কের কিছু অংশে কাজ চলমান থাকলেও এর সংযোগ সড়ক ইঞ্জিনিয়ার নুরুল হাকিম সড়কটি চরম বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। একটি সড়কের করুণ অবস্থার কারণে হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
সড়কের ইট উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সড়কের মাঝখানে পানিপথ তৈরি হয়। এসব ঝুঁকি নিয়েই স্থানীয় কোমলমতি ছাত্রছাত্রীসহ সাধারণ মানুষ চলাচল করছে। উল্লেখিত সড়কটি কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের জুমছড়ি গ্রামের নতুন বাজার থেকে সম্রাট শাহসুজা সড়ক পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৫শ ফুট দীর্ঘ।
গত বছরের বর্ষায় ভাঙনের ক্ষত এখনো সারেনি। এরই মধ্যে আবার নতুন বর্ষা মৌসুম আসছে। অল্প কয়েক দিনের মধ্যে সড়কটি মেরামত করা না হলে আসন্ন বর্ষায় সড়কটি বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে পাঁচটি গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ, বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়বে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রামু উপজেলা সদর থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। উপজেলার আশপাশের গ্রামগুলোতে উন্নয়ন হলেও এই প্রাচীন গ্রামে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি। সড়কটি ২০১৮ সালে নির্মাণ করা হলেও এরপর থেকে আর কোনো সংস্কারকাজ করা হয়নি।
সম্প্রতি এলাকার কৃতি সন্তান, সাংবাদিক ও সাবেক রামু উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী নেজাম উদ্দিনের সহযোগিতায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে গ্রামের অনেক বাড়িতে উন্নতমানের টয়লেট স্থাপন করা হচ্ছে। তবে সড়কটির উন্নয়ন না হলে হাজারো মানুষের যাতায়াত সমস্যা থেকেই যাবে।
জানা গেছে, জুমছড়ি নতুন বাজার থেকে সম্রাট শাহসুজা সড়ক পর্যন্ত ইঞ্জিনিয়ার নুরুল হাকিম সড়কটি রামু উপজেলার রাজস্ব উন্নয়ন তহবিলের বরাদ্দে নির্মিত হয়েছিল। বন্যাপ্রবণ এলাকা হওয়ায় প্রতি বছর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বর্তমানে সড়কটি প্রায় বিলুপ্তির পথে। ইট উঠে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষ পায়ে হেঁটেও চলাচলে মারাত্মক সমস্যায় পড়ছে।
স্থানীয় প্রবীণ মুরব্বি ও গ্রাম সরদার মো. ইউনুস বলেন, “এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ব্যবসায়ী, ছাত্রছাত্রীসহ হাজারো মানুষ যাতায়াত করে। ২০১৮ সালের পর আর কোনো সংস্কার হয়নি। আমরা গ্রামবাসী দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে রাব্বানী চৌধুরী বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। শিগগিরই প্রকৌশলী পাঠিয়ে বিস্তারিত যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেকে/এলএ