কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় পাগলা শিয়ালের হঠাৎ আক্রমণে শিশুসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রামজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) উপজেলার তারাকান্দি দক্ষিণ পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় একটি গরু ও একটি ছাগলকেও কামড় দেয়।
আহতরা হল উপজেলার তারাকান্দি দক্ষিণ পাড়া গ্রামের আজিজুল সরকারের বাড়ির মো. কবির মিয়ার ছেলে বায়েজিদ হাসান শায়ান (২) ও তার স্ত্রী মাইয়া আক্তার, সাইফুল হক মাস্টারের বাড়ির বাবুল মিয়ার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে নাদিরা আক্তার এবং তার ফুফু মৃত শহীদুল্লাহর মেয়ে পারভীন আক্তার।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে ঘরের বাহিরে খেলা করছিলো শিশু বায়েজিদ হাসান শায়ান। হঠাৎ একটি শিয়াল দৌড়ে এসে শিশু বায়েজিদকে আক্রমণ করতে চায়। এ সময় শিশুর চিৎকারে বায়েজিদ হাসান শায়ানের মা দৌড়ে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করেতে চাইলে তাকেও আক্রমণ করে। পড়ে সেখান থেকে ফিরে সাইফুল হক মাস্টারের বাড়ির বাবুল মিয়ার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে সুমাইয়া এবং তার ফুফু পারভীন আক্তারকেও আহত করে। এ সময় বাড়ির বাহিরে বাঁধা একটি গরু ও ছাগলকেও কামড় দেয়। এ ঘটনার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে যায়।
এদিকে, হামলার পর স্থানীয়রা শিয়ালটিকে ধরার চেষ্টা করলেও সেটি জঙ্গলে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও বন বিভাগ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় কৃষক কামাল হোসেন বলেন, ‘ঘরে-বাইরে শিয়ালের ভয় ঢুকে গেছে। রাত তো দূরের কথা, এখন দিনের বেলাও আমরা ভয় পাই।’
স্থানীয় বাসিন্দা শাহীন আলম জানান, একটি পাগলা শিয়ালের আক্রমণে চারজন আহত হয়েছে। অপরদিকে একটি গরু ও একটি ছাগলকে কামড়ে দেয়। এ নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভয়ে কেউ বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না।
তিনি প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
কেকে/এমএ