জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর সাম্প্রতিক রায়কে পক্ষপাতদুষ্ট আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে সংগঠন জুলাই ঐক্য। সংগঠনটির অভিযোগ, চানখারপুলে ছয়জন হত্যার মামলায় রায় ঘোষণা করা হলেও সেখানে বিচারপ্রক্রিয়া অসমভাবে পরিচালিত হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) জুলাই ঐক্যের সংগঠক ইসরাফিল ফরাজী সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
তিনি বলেন, “ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা ইমরুলকে ছয় বছর এবং শাহবাগ থানার সাবেক ওসি এরশাদ হোসেনকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যারা দেশে অনুপস্থিত, তাদেরই সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে, কারাবন্দিদের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে নমনীয় মনোভাব নেওয়া হয়েছে। এ কারণে আমরা রায় প্রত্যাখ্যান করছি।”
একইসঙ্গে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গেও কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, “ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হিসেবে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। বর্তমান নির্বাচনে অন্তত ৪৫ জন ঋণখেলাপি প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, যা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশসহ বিভিন্ন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”
দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যারা বিদেশে পাচারের মাধ্যমে আশ্রয় নিয়েছেন, তাদেরও বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া, জুলাই ঐক্য চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে সরাসরি জড়িত জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার দাবি জানিয়ে আসছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইসরাফিল ফরাজী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “অবিলম্বে জাতীয় পার্টি, এনডিএফসহ ১৪ দল ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের মনোনয়ন বাতিল করতে হবে। না হলে ছাত্রজনতা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতিরোধের দায় নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে।”
জুলাই ঐক্য আরও অভিযোগ করেছে, নির্বাচনী প্রচারণার সময় রাজধানীতে প্রকাশ্যে খুন হয়েছেন তাদের সংগঠক শরিফ ওসমান বিন হাদি। এ ঘটনায় এখনও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
সংগঠনটির আরও একজন সংগঠক প্লাবন তারেক জানান, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) তারা ‘মার্চ টু ইলেকশন কমিশন’ কর্মসূচি পালন করবে। এ কর্মসূচিতে ঋণখেলাপি, দ্বৈত নাগরিক, জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবিতে সমাবেশ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জুলাই ঐক্যের সংগঠক জয়নাল আবেদিন শিশির ও মুন্সি বুরহান মাহমুদ।
কেকে/ আরআই