জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছে দলগুলো। এমন পরিস্থিতিতেও বিএনপির তৃণমূলে দেখা যাচ্ছে নিয়ন্ত্রণহীন আচরণ। যা বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলছে দলটিকে। গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তুচ্ছ ঘটনা থেকে শুরু করে নির্বাচনি প্রচারে বাধা, হামলা, এমনকি প্রকাশ্য অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনাও ঘটছে। ফলে এ নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন- নির্বাচনের আগে এই বিশৃঙ্খলা বিএনপিকে ভোগান্তিতে ফেলবে।
গতকাল রাজধানীর খিলক্ষেতে ঢাকা-১৮ আসনে জামায়াত-এনসিপি ১০ দলীয় জোটপ্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদীবের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিএনপির স্থানীয় এক নেতার নেতৃত্বে এই হামলার অভিযোগ ওঠে।
জানা গেছে- গতকাল সকালে ৪৩ নং ওয়ার্ডের খিলক্ষেত ডুমনি নূরপাড়া আলিম মাদ্রাসার এক বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে দেখা করতে যান ঢাকা-১৮ আসনের জামায়াত-এনসিপি ১০-দলীয় জোটপ্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদীব। এ সময় ৪৩ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা দিদার মোল্লার নেতৃত্বে জামায়াত-এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় দিদারের অনুসারীরা।
এ বিষয়ে ঢাকা-১৮ আসন ১০-দলীয় জোটপ্রার্থীর মিডিয়া সমন্বয়ক কামরুল হাসান জানায়, বিএনপির সন্ত্রাসীদের হামলায় নূর পাড়া আলিম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল বরকতউল্লাহ এবং তার বড় ভাই হেদায়েতুল্লাহসহ ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। নেতাকর্মীরা ১০-দলীয় জোটপ্রার্থী আরিফুল ইসলামকে উদ্ধার করেছে, তিনি সুস্থ আছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ৪৩ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা দিদার মোল্লা বলেন, ওটা মাদ্রাসার ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ছিল, কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি না। ওই মাদ্রাসা পৈত্রিকসূত্রে আমাদের। তবে জোটপ্রার্থীর ওপর হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এড়িয়ে যান।
এদিকে এই হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, নির্বাচনি প্রচারের সময় পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত এসব হামলা প্রমাণ করে যে, দেশে গণতন্ত্র ও সুস্থ রাজনীতির পরিবেশ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
একই চিত্র দেখা গেছে লালমনিরহাট, চুয়াডাঙ্গা ও ময়মনসিংহে। কোথাও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষ, কোথাও নারী কর্মীদের হেনস্তা, আবার কোথাও বিএনপির বিদ্রোহী ও দলীয় প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে প্রকাশ্য গুলিবর্ষণ। যা নির্বাচনি মাঠে সহিংসতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে বিএনপির তৃণমূল রাজনীতি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ঘটনায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের দুর্বল নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্বহীন আচরণ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। দলের ভেতরের কোন্দল, বিদ্রোহী প্রার্থীদের লাগামহীন কর্মকাণ্ড এবং সহনশীল রাজনীতির অভাব বিএনপির নির্বাচনি কৌশলকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, সহিংসতা ও আগ্রাসী রাজনীতি কখনোই ভোটে ইতিবাচক ফল বয়ে আনে না। বরং তৃণমূলের এই বিশৃঙ্খলা বিএনপির জন্য ভোটের মাঠে বড় মূল্য দিতে বাধ্য করতে পারে।
এদিকে নারীকর্মীসহ ১১ দলের নির্বাচনি প্রচারণায় বিএনপি হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার সহ-সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান। একই সাথে তিনি হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। রাশেদ প্রধান অভিযোগ করেছেন, বিএনপির অতীত ও বর্তমান কৃতকর্মের কারণে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাই এখন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের নির্বাচনি প্রচারে হামলার পথ বেছে নিয়েছে। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
বিবৃতি রাশেদ প্রধান বলেন, এ দেশের ছাত্র-জনতা আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী আচরণ মেনে নিতে পারেনি বলে শেখ হাসিনাকে এক কাপড়ে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে। এতে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি নতুন ফ্যাসিবাদ হওয়ার চেষ্টা করলে ছাত্র-জনতা তাদেরও পালিয়ে যেতে বাধ্য করবে।
নির্বাচন কমিশন সকল রাজনৈতিক দলকে এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দিতে পারেনি বলেও বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন।
কেকে/ আরআই