মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তাবায়নে ডাকসু
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:২২ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নেতাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড যেনো থামছেই না। দায়িত্বের নামে ক্যাম্পাসে মোড়লিপনায় বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে সংগঠনটি। নিরাপত্তার নামে বহিরাগত ও ভবঘুরে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনার মুখে পড়েছেন সংগঠনটির নেতারা। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত এই সংগঠনটির নেতাকর্মীরা এখন জামায়াত ইসলামীর এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন অন্যান্য ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সম্প্রতি বরগুনার পাথরঘাটার কাটাখালী এলাকায় বরগুনা-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থীর নির্বাচনি জনসভায় ‘ডাকসু মাদকের আড্ডাখানা ও বেশ্যাখানা’ ছিল বলে মন্তব্য করেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. শামীম আহসান। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি, ডাকসু নির্বাচনের পরে, যে ডাকসু মাদকের আড্ডা ছিল, যে ডাকসু বেশ্যাখানা ছিল, সেটা ইসলামী ছাত্রশিবির পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। তাই এই বাংলাদেশ থেকে সকল প্রকার অন্যায়, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি উৎখাত করতে জামায়াতে ইসলামী সক্ষম।’

জামায়াত নেতার এ বক্তব্যের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। বক্তব্য নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান ঢাবি কর্তৃপক্ষ। তবে এই বক্তব্যের প্রতিবাদে ডাকসুর পক্ষ থেকে জোরালো কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। যদিও এ ঘটনায় জামায়াত নেতার প্রতি একটি খোলা চিঠি লিখে দায় সেরেছেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ।

খোলা চিঠিতে তিনি লিখেন- ‘বরগুনার জামায়াত নেতা শামীম আহসান ‘ডাকসু ছিল মাদকের আড্ডাখানা ও বেশ্যাখানা’ বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে যে ঘৃণ্য বক্তব্য দিয়েছেন তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এটা সত্যি যে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশেপাশে থেকে অনেকগুলো মাদক ও পতিতা সিন্ডিকেট [এরা ঢাবির নয় সব বহিরাগত ছিল] চিহ্নিত করে রমনা জোন পুলিশের মাধ্যমে এদেরকে আইন অনুযায়ী হাতেনাতে ধরেছেন। কিন্তু তাই বলে জামায়াত নেতা যেভাবে ঢালাওভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদক এবং বেশ্যাখানা বলে যে মন্তব্য করেছেন তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চরম অবমাননাকর। তাকে অবিলম্বে জাতির সামনে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। যদি সে আজকের মধ্যে ক্ষমা না চায় তাহলে আমরা আগামীকাল তার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মানহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করব। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।’

এদিকে ডাকসু নেতার এই স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করেও তৈরি হয় মিশ্রপ্রতিক্রিয়া। অনেকেই মনে করছেন তিনি প্রতিবাদের পাশপাশি জামায়াত নেতাকে দায়মুক্তিরও সুযোগ করে দিয়েছেন। একজন লিখেছেন- ‘আজকে রাজুতে মিছিল হলো না ক্যান? জামাতের বিরুদ্ধে বললে চাকরি থাকবে না তাই না? তথাকথিত ডাকসুকে ছাত্রসমাজ ঘৃণা জানাই।’

অন্যদিকে ঢাবি ক্যাম্পাসে ভ্রাম্যমাণ ও ক্ষুদ্র দোকানে চাঁদাবাজি, ভাঙচুর ও উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে ডাকসু এবং ছাত্রদলের মধ্যে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। গত শনিবার রাতে দোকান ভাঙচুর ও উচ্ছেদের একটি ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডাকসু ও হল সংসদের নেতারা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন।

এদিন দুপুরে মধুর ক্যান্টিনে বড় পর্দায় একটি ‘ডকুমেন্টারি’ প্রদর্শন করে ডাকসু নেতারা দাবি করেন যে, বিজয় একাত্তর হল ও সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা শিক্ষার্থীদের নাম দিয়ে দোকান বসিয়ে সেখান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের পরিকল্পনা করছিলেন। এ সময় ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ সরাসরি তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিজ দলের ‘চাঁদাবাজদের’ নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানান।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল এসব অভিযোগকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। প্রক্টরের কাছে দেওয়া এক লিখিত অভিযোগে ছাত্রদল দাবি করেছে, ডাকসুর বিতর্কিত প্রতিনিধিরাই মূলত প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন। ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির গণজোয়ার নস্যাৎ করতে ডাকসু নেতারা এখন জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নের মাঠে নামছেন। তারা ছাত্রদলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে দেড় মাস আগের পুরোনো ও এডিট করা ভিডিও ছড়িয়ে ‘মব’ তৈরির চেষ্টা করছে।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে ও জিমনেসিয়ামে সর্বমিত্র চাকমা কিশোর ও তরুণদের লাঠি হাতে কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন- এমন দুটি ভিডিও পরপর দুই দিন ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। যা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন সর্বমিত্র। এ ঘটনায় শেষ পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি। গতকাল সোমবার দুপুরে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান সর্বমিত্র চাকমা। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবির প্যানেল থেকে ডাকসু নির্বাচন করে সদস্য নির্বাচিত হন। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সর্বমিত্র চাকমার হাতে রয়েছে লাঠি। তিনি লাঠি হাতে জিমনেসিয়ামে এদিক-সেদিক হাঁটছেন ও কিশোর-তরুণদের কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন। কান ধরে ওঠবসের সংখ্যা গুনছেন।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সর্বমিত্র চাকমা ফেসবুকে লেখেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রের মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তাসংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে, মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।’

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে অবগত করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে ওঠবস করাতে বাধ্য হই। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি স্বীকার করছি- এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। একই সাথে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্যপদ হতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

‘এ সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, কারও প্রতি ক্ষুব্ধ বা অভিমানবশত নয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন, আমি সে প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হইনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

কেকে/ আরআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  জামায়াত   এজেন্ডা   ডাকসু  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close