পাবনার ভাঙ্গুড়ায় এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যের ভবন নির্মাণের সময় চাঁদা দাবির অভিযোগে শ্রমিক নেতাসহ দুই সহোদরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে সেনাবাহিনী।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
এর আগে, সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় পৌর সদরের ভাঙ্গুড়া বাজার এলাকায় যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ভবন মালিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মো. নওশাদ আলী বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে ভাঙ্গুড়া থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। ভাঙ্গুড়া সেনা ক্যাম্পে একটি অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
আটককৃতরা হলেন- পৌর সদরের ভাঙ্গুড়া রেল পাড়া মহল্লার মৃত হাজী মোর্শেদের ছেলে মাসুদ রানা (৫৫) ও আব্দুল মালেক (৫০)। রানা উপজেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা বলে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস.এম মোস্তাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য নওশাদ আলী পৌর শহরের ভাঙ্গুড়া বাজারে হাইস্কুল রোড এলাকায় সম্প্রতি ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এরপর গত কয়েকদিন ধরে অভিযুক্ত সহোদর মাসুদ রানা ও আব্দুল মালেকসহ কয়েকজন ব্যক্তি নওশাদ আলীর কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে তারা কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। এরপরেও ওই সেনা সদস্য কাজ চালিয়ে যেতে থাকলে সোমবার অভিযুক্তরা নওশাদ আলীর ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিতে যান এবং নানাভাবে ভয়ভীতি দেখান। এতে নিরুপায় হয়ে ওই সেনা সদস্য স্থানীয় সেনা ক্যাম্প ও থানায় অভিযোগ করেন। এর প্রেক্ষিতে যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে আব্দুল মালেক ও মাসুদ রানাকে আটক করে সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যান। সেখানে চাঁদাবাজির ঘটনা স্বীকার করায় আব্দুল মালেক ও মাসুদ রানাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়।
ওসি এসএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চাঁদা দাবির অভিযোগে মাসুদ রানা ও আব্দুল মালেককে আটকের পর থানায় হস্তান্তর করে সেনাবাহিনী। এ ঘটনায় ভবন মালিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য নওশাদ আলী বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে ভাঙ্গুড়া থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। মঙ্গলবার দুপুরে তাদেরকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
কেকে/ এমএস