বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে এগোচ্ছে, কিন্তু দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি খাত যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়া এই উত্তরণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এলডিসি উত্তরণের ফলে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা, সহজ ঋণ এবং নীতিগত ছাড় হারাবে। এতে আর্থিক খাতে নতুন চাপ তৈরি হবে বলে মনে করছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা। তবে স্বল্পমেয়াদি সুবিধার জন্য উত্তরণের সময় পিছিয়ে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও ব্যাংক কর্মকর্তা মনে করছেন, এলডিসি উত্তরণ কেবল প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, এটি একটি কাঠামোগত রূপান্তর। বিশেষ করে ওষুধ, পোশাক ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের প্রস্তুতি না থাকলে রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান এবং মানুষের জীবনের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
তারা বলেন, উত্তরণকে সময়সীমা নয়, বরং স্মুথ ট্রানজিশন-এর সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে সমন্বিত নীতি, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং যথাযথ রূপান্তরকাল নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ মর্যাদা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এলডিসি উত্তরণ সম্পন্ন করতে পারবে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ (আইসিসিবি) আয়োজিত স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ব্যাংকিং খাতে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে-এ নিয়ে এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতারা বক্তব্য দেন। তারা সবাই এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় পিছিয়ে দেওয়ার পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো ‘পাপেটের’ (পুতুল) মতো আচরণ করেছে। যখন ৬ থেকে ৯ শতাংশ সুদের হার জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তখন ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদ না করে হাততালি দিয়েছিলেন এবং অর্থ পাচারের মহোৎসবের সময়ও তারা নিশ্চুপ ছিলেন। ব্যবসায়ীরা স্বচ্ছ না হলে দেশের অর্থনীতি কখনোই শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে না।
তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদি সুবিধার জন্য উত্তরণের সময় পিছিয়ে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। বরং মানবসম্পদ উন্নয়ন, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মাধ্যমে বড় সুযোগগুলো লুফে নিতে হবে। অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য কেবল চমৎকার নীতিমালা থাকলেই চলবে না, সেই নীতি বাস্তবায়নের দক্ষতাও অর্জন করতে হবে।
গভর্নর বলেন, ‘সুদের হার বর্তমানে অত্যন্ত বেশি। সময়ের প্রয়োজনেই বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণ করবে। তবে, রাজনৈতিক চাপ দিয়ে নয়-ছয়ের হার আর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।’
ড. মনসুর আরও বলেন, ‘বাজারভিত্তিক সুদের হারই নির্ধারিত হবে। এর জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসা জরুরি। খেলাপি ঋণ কমানো, আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা, বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও রিজার্ভের অবস্থান শক্তিশালী করা, এসবই দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।’
হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ মুদ্রানীতির কঠোরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, শুধু সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় এবং এই কঠোর নীতির ফলে ইতোমধ্যে ১২ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। আগামী ছয় মাসে আরও ১২ লাখ মানুষ চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, বেসরকারি খাত ব্যাংক থেকে মাত্র ৬ শতাংশ ঋণ পেলেও সরকার নিয়েছে ২৭ শতাংশ। কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি না করে শুধু মনিটারি পলিসি দিয়ে সংকট কাটানো সম্ভব নয় বলে তিনি নতুন সরকারের কাছে দাবিগুলো দ্রুত তুলে ধরার তাগিদ দেন।
বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ব্যাংক-এর চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার বলেন, প্রায় এক বছর আগে থেকেই আমরা আইনজীবীদের মাধ্যমে সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছিÑএলডিসি উত্তরণ পরবর্তী বাস্তবতা কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, সে বিষয়ে। সরকারি দিক থেকে সংশ্লিষ্ট সচিবসহ অনেকেই দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা বলেন, কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ আমরা দেখতে পাইনি। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি মোকাবিলায় দৃশ্যমান প্রস্তুতি নেই।
তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণের প্রভাব শুধু নীতিগত নয়Ñএর সঙ্গে ব্যাংকিং খাত, ডলার প্রবাহ, ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা, রপ্তানি আয়-সবকিছু সরাসরি জড়িত। প্রস্তুতি ছাড়া এই উত্তরণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এলডিসি উত্তরণ কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়। এটি বহু স্টেকহোল্ডার-ব্যবসায়ী, ব্যাংক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সমন্বিত প্রস্তুতির বিষয়। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখছি, সবাই আলাদা আলাদা চিন্তা করছে, সমন্বিত কোনো রোডম্যাপ নেই।
ট্রান্সকম গ্রুপ-এর গ্রুপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান বলেন, উন্নয়ন যাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ। দেশ যখন এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে এগোচ্ছে, তখন আমাদের অর্থনীতিকে কীভাবে প্রস্তুত করা হবেÑসেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা এখন অত্যন্ত জরুরি। এটি নিছক একটি অর্থনৈতিক শ্রেণিবিন্যাস পরিবর্তন নয়; বরং এটি একটি কাঠামোগত রূপান্তর, যা নীতি প্রণয়নের পরিসরকে নতুনভাবে গড়ে দেবে-বিশেষ করে যেসব খাত সরাসরি মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত।
তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণের জন্য আমরা ওষুধ শিল্পকে কীভাবে প্রস্তুত করি, তা ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির টেকসই চরিত্র নির্ধারণ করবে। এলডিসি দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ট্রিপস চুক্তির নমনীয়তা কাজে লাগিয়ে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ক্যানসার, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, সংক্রামক রোগসহ বহু প্রাণঘাতী রোগের জীবনরক্ষাকারী ওষুধ দেশে উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। এর ফলে একদিকে শিল্পের বিকাশ ঘটেছে, অন্যদিকে দেশের লাখো মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে চিকিৎসা সুবিধা পেয়েছে।
সিমিন রহমান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ প্রায় ওষুধে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে একটি বিরল উদাহরণ। তবে যথাযথ রূপান্তরকালীন ব্যবস্থা না থাকলে এলডিসি উত্তরণ আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। পূর্ণমাত্রায় পেটেন্ট আইন কার্যকর হলে ওষুধ উৎপাদকদের লাইসেন্স ফি, রয়্যালটি এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ওষুধের দামে। এটি শুধু শিল্পের সমস্যা নয়-এটি একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য ইস্যু।
তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণকে সময়সীমা নয় বরং প্রস্তুতির সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ একটি সম্পূর্ণ সমন্বিত, গুণগতমানসম্পন্ন, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে। এই রূপান্তরকালীন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি স্বাধীনতা ও কৌশলগত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমন্বিত নীতি, দক্ষ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা এবং যথাযথ রূপান্তরকাল নিশ্চিত করা গেলে ওষুধ শিল্প দেশীয় শক্তি ও রপ্তানি সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রেখেই এলডিসি উত্তরণ মোকাবিলা করতে পারবে। এই উত্তরণই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের পরবর্তী অধ্যায়-যেখানে মানুষের স্বাস্থ্য, শিল্প সক্ষমতা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা থাকবে কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রয়োজন শুধু ধৈর্য, পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির সময়। তাহলে বাংলাদেশ উত্তরণ ঘটাবে শুধু মর্যাদার সঙ্গে নয়-আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেও।
পিকার্ড বাংলাদেশের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর অম্রিতা মাকিন ইসলাম বলেন, রপ্তানিকারক হিসেবে আমাদের প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে লড়াই করতে হয় নানা সূচকে। বাংলাদেশের পোশাক খাতে লিড টাইম গড়ে ৯০ থেকে ১২০ দিন। অথচ ভিয়েতনাম কিংবা চীনে তা মাত্র ৪০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। পাশাপাশি আমাদের শিল্প খাতে পর্যাপ্ত ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের অভাব আমাদের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে মেডিকেল ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাত গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে দুই বিলিয়ন ডলারের নিচেই আটকে আছে। অথচ এই খাতে প্রবৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলোর কারণে এই খাত এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে বিকশিত হতে পারছে না।
তিনি বলেন, বর্তমানে রপ্তানিকারকদের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মতো বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার। এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী সময়ে এই সুবিধা কতটা থাকবে-এই প্রশ্নটাই এখন প্রতিটি রপ্তানিকারকের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। বাংলাদেশে রপ্তানি খাত সরাসরি প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ৪ কোটি মানুষের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। ফলে এখানে শুধু বাণিজ্য নয়-কর্মসংস্থান ও জীবিকা রক্ষার প্রশ্নও জড়িত। এলডিসি থেকে উত্তরণ যেন বাংলাদেশের জন্য কোনো শাস্তি না হয়ে দাঁড়ায়-এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এজন্য প্রস্তুতির ক্ষেত্রে ‘স্মুথ ট্রানজিশন’-এর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্তত দুটি বিষয়ে আমাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রথমত, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার ক্ষেত্রে সম্মিলিত ও সুসংহত উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত-শুল্কমুক্ত সুবিধা হঠাৎ করে হারিয়ে না ফেলা। পাশাপাশি জিএসপি প্লাস সুবিধার জন্য যোগ্যতা অর্জনের একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে, যাতে এলডিসি সময়ে যে সুবিধা আমরা পেয়েছি, উত্তরণ-পরবর্তী সময়েও তা অব্যাহত রাখা যায়।
মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ একটি ইতিবাচক লক্ষ্য হলেও মূল প্রশ্ন হলো-বাংলাদেশ কি বাস্তবিক অর্থে প্রস্তুত? সমস্যা উত্তরণে নয়, বরং অপরিকল্পিত ও তাড়াহুড়ো করে উত্তরণে। বর্তমানে প্রস্তুতির বদলে আলোচনা ও সেমিনার বেশি হচ্ছে, কিন্তু বাস্তব প্রস্তুতি সীমিত।
বক্তারা বলেন, গত কয়েক বছরে দুটি বড় ধাক্কা-কোভিড-১৯ মহামারি ও সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট-শিল্প খাতকে দুর্বল করে দিয়েছে। বিশেষ করে দুর্বল ম্যাক্রো অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার কারণে সৃষ্ট সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি, যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর্থিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে কাজ করছে।
রপ্তানি ক্ষতির ঝুঁকি সরকারিভাবে যে পরিমাণ বলা হচ্ছে, বাস্তবে তা আরও বেশি হতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রেতারা ইতোমধ্যে বিকল্প দেশ প্রস্তুত রেখেছে-বাংলাদেশ প্রস্তুত না থাকলে তারা অন্য দেশে চলে যাবে। বহুমুখীকরণ নিয়েও কথা হচ্ছে, কিন্তু কার্যকর নীতি না থাকলে তা কেবল স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
এলডিসি উত্তরণে সফল হতে হলে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, নীতিগত স্বচ্ছতা ও আস্থার পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি জাতিসংঘের মূল্যায়ন প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশ ও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, প্রতিষ্ঠানগত সক্ষমতা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, স্বাধীন নীতিনির্ধারণ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা ছাড়া এলডিসি উত্তরণ সফল হবে না। সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তব প্রস্তুতি থাকলে বাংলাদেশ সঠিক পথে এগোতে পারবে।
কেকে/এমএ