মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
প্রকৃতির ‎অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা তারুয়া সমুদ্র সৈকত
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:১১ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সর্বদক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের কোলে লুকিয়ে আছে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ঢালচর ইউনিয়নের নৈসর্গিক রত্ন তারুয়া সমুদ্র সৈকত। কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘের এই সৈকতে রয়েছে সোনালি বালি, সবুজ চারণভূমি এবং সৈকতের গা ঘেঁষে রয়েছে ঘন ম্যানগ্রোভ বন, যেখানে দেখা মেলে বিভিন্ন অতিথি পাখির। এক কথায়, তারুয়া সৈকত এক অপূর্ব সৌন্দর্যে ঘেরা, যা একবার দেখলেই পর্যটকদের মন টানে বারবার।
তরুয়া সমুদ্র সৈকতে ‎ভোরবেলা দাঁড়িয়ে দেখা যায় ভোরের নরম আলো কুয়াশা ভেদ করে বালিতে পড়ে, বিকালে সূর্যাস্তের সঙ্গে সমুদ্রের মিলন এক অপার্থিব দৃশ্য সৃষ্টি করে।
‎সৈকতের পাশের বিস্তীর্ণ ম্যানগ্রোভ বন তারুয়া দ্বীপের প্রাণ। বনে রয়েছে হরিণ, মহিষ, ছাগল, শিয়াল, লাল কাঁকড়া এবং বিভিন্ন জলজ পাখি। সবুজ পাতার ছায়া ও নদীর সংযোগ পর্যটকের মনকে শান্তি ও স্বস্তি দেয়। প্রকৃতিপ্রেমীরা এখানে শুধু প্রাণী পর্যবেক্ষণ করেন না, প্রাকৃতিক নীরবতায় হারিয়ে যাওয়ার আনন্দও উপভোগ করেন।
‎বর্তমানে তারুয়া সৈকতটি পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শুক্রবার ও শনিবার সৈকতজুড়ে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
‎তারুয়া সৈকতে যাত্রা ও ভ্রমণের সুবিধা হলো ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা সদর থেকে দক্ষিণ আইচা বাজার পর্যন্ত বাস রয়েছে, সিএনজি বা মোটরসাইকেলেও যাওয়া যায়। বাস ভাড়া ৫০ টাকা, মোটরসাইকেল ২০০ টাকা। দক্ষিণ আইচা থেকে চরকচ্ছপিয়া লঞ্চঘাট পর্যন্ত অটো ভাড়া ২০ টাকা। চরকচ্ছপিয়া লঞ্চঘাট থেকে ঢালচরে লঞ্চ ভাড়া ১২০ টাকা। চাইলে স্পিডবোটেও যাওয়া যায়, যার ভাড়া প্রতি জন ২৫০ টাকা। ঢালচরে প্রায় ৫০ টির অধিক ভাড়ায় চলিত মোটরসাইকেল রয়েছে, যা পর্যটকরা এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়াতে পাড়েন।
‎তারুয়া সৈকতে থাকার ও খাবারের সুবিধা হলো
‎পর্যটকদের জন্য রয়েছে ক্যাম্পিং তাঁবু, কয়েকটি আবাসিক হোটেল এবং খাবারের হোটেল। অর্ডার অনুযায়ী খাবার পরিবেশিত হয়, যা ভ্রমণকারীদের আরামদায়ক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে।
‎ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক জাবেদ বলেন, গতবছরও এই দ্বীপে ঘুরে গেছি, এবছর আবারও এসেছি। কুয়াকাটা বা কক্সবাজারের তুলনায় তারুয়া একেবারেই ভিন্নরূপে আকর্ষণীয়। সবুজের সমারোহ, পাখির কোলাহল, ছোট খাল আর ম্যানগ্রোভ বনের সংমিশ্রণ এক স্বপ্নিল পরিবেশ তৈরি করেছে। একবার আসলে বারবার আসতে মন চায়।
‎ভোলার মনপুরা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক সীমান্ত হেলাল জানান, এখানে এসে মনে হলো এ যেন অন্য এক জগতে প্রবেশ করেছি। সূর্যাস্তের রঙ, ঢেউয়ের সুর এবং ম্যানগ্রোভ বনের জীববৈচিত্র্য একসাথে উপভোগ করা যায়। থাকার সুব্যবস্থা ভ্রমণকে আনন্দময় করেছে।
‎তারুয়া সমুদ্র সৈকতের সেভেন স্টার হোটেল এন্ড রিসোর্টের পরিচালক বশার মিয়া বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো পর্যটকদের নিরাপত্তা দেয়া, থাকার ব্যবস্থা করা এবং খাবারের মান উন্নত করা। আমরা তা চেষ্টা করছি। যাতে তারা প্রশংসা করে এবং আবার ঘুরতে আসেন।
‎ঢালচরের স্থানীয় বাসিন্দা শাহে আলম ফরাজি জানান, পর্যটনের পরিধি এখনও সীমিত। তবে সৈকতের কাছে একটি নদীতে একটি লঞ্চ টার্মিনাল, পর্যাপ্ত লঞ্চ সার্ভিস চালু এবং নিরাপত্তা জোরদার হলে তারুয়া সমুদ্র সৈকতটি দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। সৈকতটির উন্নতির জন্য সরকারের নজর এবং প্রকল্প বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
‎চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. লোকমান হোসেন বলেন, আমি ইতিমধ্যে তারুয়া সমুদ্র সৈকতটি পরিদর্শন করে আসছি। সৈকতটির উন্নয়নের জন্য নজর দেব।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close