সম্প্রতি নারীদের বিবস্ত্র করার ঔদ্ধত্যপূর্ণ ঘোষণা এবং দেশব্যাপী মা-বোনদের ওপর বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “সম্প্রতি এক বিএনপি নেতা দলীয় নির্বাচনি সভায় প্রকাশ্যে নারীদের বিবস্ত্র করার ঘোষণা দেয়, যা অসভ্যতার সকল সীমা অতিক্রম করেছে। তার এই কাপুরুষোচিত ঘোষণা সামাজিক মূল্যবোধ, মানবিকতা এবং পুরো নারীসমাজকে চরমভাবে অপমানিত করেছে। তাদের ধারাবাহিক অপকর্মে জনজীবন আজ অতিষ্ঠ। গত দেড় বছরে তাদের হাতে ৭০টিরও বেশি নারী ধর্ষণের ঘটনা, অব্যাহত সাইবার বুলিং ও স্লাটশেমিং, এবং সম্প্রতি নির্বাচনী প্রচারণাকালে অন্তঃসত্ত্বা মায়ের পেটে লাথি মারা, মা-বোনদের হিজাব খুলে নেওয়া, এমনকি মসজিদে প্রবেশ করে নারীদের মারধরের মতো পৈশাচিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করে—তাদের হাতে নারীসমাজ আজ কোথাও নিরাপদ নয়।”
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, ধারাবাহিকভাবে মা-বোনদের ওপর এমন জঘন্য নির্যাতন চললেও বিএনপি বা তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রতিবাদ কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নজির দেখা যায়নি। এই রহস্যজনক নীরবতা প্রমাণ করে যে, নারী হেনস্তা বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তেরই অংশ। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, মা-বোনদের যারা সম্মান দিতে জানে না, তাদের কাছে দেশ ও জাতি কখনোই নিরাপদ নয়।”
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “যেকোনো দলের হয়ে ভোট চাওয়া বা প্রচার-প্রচারণা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। প্রচার-প্রচারণায় কোনো অনিয়ম হলে তার জন্য দেশের প্রচলিত আইন রয়েছে। কিন্তু মিথ্যা ও বানোয়াট অজুহাতে একটি রাজনৈতিক দল বারবার আইন হাতে তুলে নিলেও প্রশাসন আজ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। আমরা আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত ও সম্মানের ওপর যদি এভাবে বারবার পৈশাচিক আঘাত আসতে থাকে, তবে ছাত্র-জনতা আর হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। এর ফলে সৃষ্ট যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রশাসন এবং বিএনপি নেতৃত্বকেই সম্পূর্ণ দায়ভার বহন করতে হবে।”
নেতৃবৃন্দ চুয়াডাঙ্গার মহসিন আলীসহ সকল নারী নিপীড়কদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। পাশাপাশি এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএনপির প্রতিও আহ্বান জানান।
কেকে/ এমএস