মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর       কোনো রোগী যেন চিকিৎসার অভাবে দুর্ভোগে না পড়ে : সমাজকল্যাণমন্ত্রী      রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড়ে ককটেল বিস্ফোরণ      হামে প্রাণ গেল আরও তিন শিশুর, মোট মৃত্যু ৬৮৬      একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      
রাজনীতি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
তৃণমূলে গাছাড়া বিএনপি
প্রণব আচার্য্য
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:২১ এএম আপডেট: ২৯.০১.২০২৬ ১:৪০ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর বাকি ১৪ দিন। ভোটের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। সারা দেশে এখন নির্বাচনি হাওয়া তুঙ্গে। প্রতিশ্রুতি ও পাল্টপাল্টি কথায় জমে উঠেছে লড়াই। এবারের নির্বাচনে নেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। তাই এবার একদিকে রয়েছে বিএনপি ও তার মিত্ররা।

অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বে ১১-দলীয় জোট। এ ছাড়া বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পার্টিসহ বেশ কয়েকটি দল স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করছে। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। তাই এ দুই দলের নির্বাচনি কৌশলের দিকে নজর সাধারণ মানুষসহ বিশ্লেষকদের।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় দল হিসেবে ভোটের মাঠে এগিয়ে বিএনপি। তবে জামায়াতও এবার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে। বেশ কয়েকটি ইসলামী দল ও গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের দল এনসিপিকে নিয়ে জোট করেছে জামায়াত। প্রচারের কৌশলে ১১-দলীয় জোট এবার কিছু ভিন্নতা দেখাচ্ছে। বিশেষ করে জামায়াত দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে নানা কৌশলে ভোট চাইছে দলটির নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যুক্ত থেকেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। সব মিলিয়ে তৃণমূলে এবার বেশ মনোযোগী জামায়াত। সেইসঙ্গে নারী ভোটার টানতে বিশেষ কর্মসূচিও রয়েছে তাদের।

বিপরীতে বিএনপি সনতানী পদ্ধতিতেই প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জেলায় জেলায় সমাবেশ করছেন। কিন্তু তৃণমূল বিএনপির মধ্যে গাছাড়া ভাব রয়েছে। তাদের মধ্যে এক ধরনের আত্মবিশ্বাস কাজ করছে, যে নির্বাচনে বিএনপিই জয়ী হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা বিএনপির জন্য আত্মঘাতী হবে। গত এক দশকে, বিশেষ করে ৫ আগস্টপরবর্তী সময়ে ভোটারদের মনোস্তত্ত্বে বড় পরিবর্তন এসেছে। তারা নতুন মাত্রার রাজনীতি দেখতে চায়। এ বিষয়টাকে মাথায় রেখে সেভাবেই তৃণমূলে কাজ করছে জামায়াত। অন্যদিকে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এ ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মতে, ভোটের মাঠে বিএনপির কার্যক্রমে পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ হচ্ছে ‘অতি আত্মবিশ্বাস’। যা তাদের ভোটযুদ্ধে পিছিয়ে ফেলছে। বিশেষ করে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পর দলটির নেতাকর্মীরা মনে করছেন তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে শক্তিশালী কোনো দল নেই। যদিও তাদের এ ধারণা সঠিক নয়। কারণ, জামায়াতে ইসলামী বিগত সময়ে দেশের রাজনীতিতে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ না পেলেও; তারা সেই সময়টাজুড়ে সাংগঠনিক শক্তি অর্জনে কাজ করেছে। তৈরি করেছে জনমত ও ভোটব্যাংক।

এ ছাড়া হাসিনা সরকারের পতনের প্রকাশ্য ধারাবাহিক কল্যাণমূলক কাজ করে যাচ্ছে জামায়াত। যা জনমনে অনেকটা প্রভাব ও দলটি সম্পর্কে সুধারণা তৈরি করেছে। অন্যদিকে বিএনপির কিছু কর্মকাণ্ডে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। যা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি দলটির নেতাকর্মীরা।

যদিও কিছুদিন আগে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আগামী জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপির এককভাবে সরকার গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, আমরা জয়ী হব। আমরা জোরালোভাবে বিশ্বাস করি যে, এককভাবে সরকার গঠনের অবস্থায় আমরা রয়েছি।’

তবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে যত সহজ ভাবা হচ্ছে, নির্বাচন তত সহজ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান। বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, ‘এক বছর, সোয়া বছর আগে যে কথাটি বলেছিলাম যে, সামনের নির্বাচন যা ভাবছেন তা নয়। আজকে আস্তে আস্তে আমার কথাটা প্রমাণিত হচ্ছে। এখনো যদি আমরা সিরিয়াস না হই, সামনে এ দেশের অস্তিত্ব, সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন হবে। এটা একমাত্র বাঁচাতে পারে গণতন্ত্র এবং সেই গণতন্ত্রের ভিত্তিকে মজবুত করতে পারেন আপনারা-বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রত্যেকটি মানুষ।’

তৃণমূলের উচ্ছৃঙ্খলায় ইমেজ সংকট : বিএনপির তৃণমূলে দেখা যাচ্ছে নিয়ন্ত্রণহীন আচরণ। যা বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলছে দলটিকে। গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তুচ্ছ ঘটনা থেকে শুরু করে নির্বাচনি প্রচারে বাধা, হামলা, এমনকি প্রকাশ্য অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনাও ঘটছে। ফলে এ নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে এ বিশৃঙ্খলা বিএনপিকে ভোগান্তিতে ফেলবে।

প্রার্থীদের বড় বাধা তৃণমূলের বিভেদ : কিছু আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। আবার কিছু আসনে তৃণমূলে রয়েছে বিভেদ। আর এই বিভেদের ফলে ব্যাঘাত ঘটছে প্রচারণায়। যশোরের সংসদীয় ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটি আসনেই মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীদের অনুসারীদের এখনো মাঠে নামাতে পারেননি দলীয় প্রার্থীরা। ভাঙাতে পারেননি মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থী কিংবা অনুসারীদের ক্ষোভ আর অভিমান। জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দিলেও স্থানীয় পর্যায়ের বড় অংশ তা মানছে না।

তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, নেতাকর্মীদের দ্বিধাবিভক্তের এ দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। দ্বন্দ্ব মেটাতে না পারলে আসনগুলো হারানোর শঙ্কাও রয়েছে।

কেকে/এলএ




আরও সংবাদ   বিষয়:  তৃণমূল   গাছাড়া   বিএনপি   তারেক রহমান   
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

রাজনীতি- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close