ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সমানে রেখে নানামুখী প্রচারণা চালাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ট্র্যাডিশনাল প্রচারণার পাশাপাশি দলটি কিছু এজেন্ডা সামনে নিয়ে এসেছে, যার মধ্য দিয়ে জাতীয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে। এর মধ্যে ‘ধর্ম কার্ড’ গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে দলটিকে। অন্যদিকে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনেও জামায়াত খুব একটা সুবিধা করতে পারছে না।
অন্যদিকে ঘরে ঘরে গিয়ে নারীদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য ও বিকাশ নম্বর চাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় ফের সমালোচনায় পড়তে হয় তাদের। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার নারী ইস্যুটিকে সামনে এনেছে দলটি। আগামী শনিবার রাজধানীর সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে মহিলা সমাবেশ করবে জামায়াত। যদিও এবারের নির্বাচনে ২১৫ আসনে প্রার্থী দেওয়া দলটি একজন নারীকেও মনোনয়ন দেয়নি।
জামায়াত অভিযোগ করেছে, সারা দেশে তাদের নারী কর্মীদের নাকি হেনস্তা করছে বিএনপি। এর প্রতিবাদে তারা সোহ্রাওয়ার্দীতে এ সমাবেশ করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াত এতকাল রাজনীতি করে আসছে ধর্ম কার্ড ব্যবহার করে। এবারও তাদের নেতা-কর্মীরা প্রচার চালাচ্ছে তাদের ভোট দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠায় এবার কৌশল বদলাচ্ছে তারা। নতুন ট্রাম্পকার্ড হিসেবে তারা নারী ইস্যুটিকে সামনে আনছে। যদিও ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে নারী হেনস্তায় দলটির নেতাকর্মীদের দেখা গেছে। সর্বশেষ জামায়াতের এক নেতা ঢাবিকে বেশ্যাখানা বলে অভিহিত করেছেন।
এর আগে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান নারীদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়ার কথা তুলে সমালোচিত হয়েছিলেন। তাই এবার তারা এই ইস্যুতে সামনে এসে ভোটের মাঠে বাজিমাৎ করতে চাইছে। নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আগামী শনিবার ‘প্রতিবাদী সমাবেশ’ করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ। এ কর্মসূচির মাধ্যমে জামায়াত প্রথমবারের মতো রাজধানীতে দলের নারী নেতা-কর্মীদের বড় জমায়াতের পরিকল্পনা করছে।
গত মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় এক সংবাদ সম্মেলনে দলের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এই ‘প্রতিবাদী সমাবেশ’ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সারা দেশে নির্বাচনি প্রচারে জামায়াতের মহিলা বিভাগের নেতা-কর্মীদের ওপর ‘বিএনপির হামলা-হেনস্তা-ভয়ভীতির’ প্রতিবাদে এ সমাবেশ করা হবে। সমাবেশের আয়োজক জামায়াতের মহিলা বিভাগ।
জাতীয় নির্বাচনসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আজকের সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জামায়াত।
সংবাদ সম্মেলনে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “জামায়াতের মহিলা বিভাগের নেতা-কর্মীরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে প্রতিবাদ জানাবেন। প্রকাশ্য প্রতিবাদ হবে সারা দেশে নির্বাচনি প্রচারে জামায়াতের মহিলা বিভাগের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার বিরুদ্ধে। এতে নির্বাচন কমিশন ও সরকার কর্ণপাত না করলে জামায়াতের মহিলা বিভাগের পক্ষ থেকে আরও কর্মসূচি দেওয়া হবে। পাশাপাশি ১১-দলীয় নির্বাচনি ঐক্যও কর্মসূচি দেবে।”
আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) অনুযায়ী রাজনৈতিক দলে ৩৩ শতাংশ নারীর প্রতিনিধিত্ব থাকার বাধ্যবাধকতা আছে উল্লেখ করে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “একমাত্র জামায়াত এই শর্ত পূরণ করতে পেরেছে। তারপরও প্রতিপক্ষরা জামায়াতে নারীদের গুরুত্ব কম এ ধরনের অপপ্রচারকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে।”
আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “সারা দেশে জামায়াতের নারী সমর্থক বেশি। সে কারণে ভোটও বেশি। নারীরাই জামায়াতকে বেশি ভোট দেবে। কারণ, নারীরা শান্তিপ্রিয়। নারীরা উচ্ছৃঙ্খলতা ও উগ্রতা পছন্দ করে না।”
জামায়াতের এই নেতা বলেন, “তাদের নারী সংগঠনের কর্মীরা সারা দেশে সক্রিয়। এটি নির্বাচনের প্রধান প্রতিপক্ষ টের পেয়েছে। তারা বুঝতে পেরেছে, মহিলাদের কর্মকাণ্ড তাদের দলের পুরো প্রচারণাকে অতিক্রম করে যাবে। সে জন্য তারা সারা দেশে মহিলাদের আক্রমণ, হেনস্তা, ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছে।”
জামায়াতের এই নায়েবে আমির বলেন, “নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব সরকারের। তবে দুঃখজনকভাবে যারা নারীদের অধিকার ও স্বাধীনতার বিষয়ে বেশি বেশি চিৎকার করেন, তারাই এখন শুধু রাজনৈতিক কারণে নারীদের ওপর হামলা করছেন। জামায়াতকে ভোট দিলে জিহ্বা কেটে রাখা, হাত কেটে রাখার হুমকি দিচ্ছেন।”
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “এসব হামলা বিএনপির লোকজনই করছেন।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছুম, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ওলিউল্লাহ নোমান প্রমুখ।
কেকে/এলএ