বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ঢাকা-১৭ আসনে এলিট শ্রেণীর পাশাপাশি নিম্ন আয়ের লোকজনও বসবাস করে। তাদেরকে উচ্ছেদ নয়, বরং তাদের জীবনমানের উন্নয়ন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াত মনোনীত ও ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামানের সমর্থনে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের যুবক যুবতীরা ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে ফুসে উঠেছিলো সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করার জন্য। অন্যায়ের প্রতিবাদ করার জন্য। খুন, ঘুম, হত্যা, রাহাজানি বন্ধে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল ।জুলাই এর প্রথম শহীদ আবু সাঈদ তার বুক পেতে দিয়েছিল পরিবর্তন করার জন্য। আমরা সে সমাজ এখনো পাইনি। আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি আগামী দিনে এই সমাজকে এগুলো থেকে মুক্ত করার জন্য।
তিনি বলেন, যে শাষনব্যাবস্থা আমাদেরকে হত্যা করে।আমরা সে রাজনীতি চাই না।যার হক তার কাছে পৌছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। ১৭ মাস ধরে কারো উপর আমরা জুলুম করিনি। আমরা চাঁদাবাজি করিনি, মা-বোনদের ইজ্জতের উপরে হাত উঠায়নি। ইনশাআল্লাহ নির্বাচিত হলে আমাদের দ্বারা এ কাজগুলো হবে না ইনশাআল্লাহ। আমরা পরিবারতন্ত্রিক রাজনীতি চাই না। একজন শ্রমিকের ছেলেও প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে, যদি তার যোগ্যতা থাকে। আমরা এমন এক সমাজ চাই।
তিনি আরও বলেন, সর্বত্র দুর্নীতি বিস্তারলাভ করেছে। পরিষেবা নিতে গেলে জায়গায় জায়গায় চাঁদা বা ঘুষ না দিলে কাজ হয় না। আমরা সমাজকে এ রোগ থেকে মুক্ত করতে চাই। আমরা সমাজে ইনসাফ চাই, বিচার সবার জন্য সমান হবে। এখানে রাজা ও প্রজা বলে কোনো কথা নেই। প্রেসিডেন্ট থেকে ভ্যানচালক- সবাই এদেশের নাগরিক। অপরাধ করলে দেশের প্রেসিডেন্টও রেহাই পাবেন না। বিচার ঠিক না থাকার কারণে সমাজে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অপরাধ হচ্ছে, বিচার ঠিক তাকলে এসব হতো না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শিশুরা জাতির সম্পদ। তাদের সুশিক্ষায় আমরা তাদের গড়ে তুলতে পারি, আল্লাহর মেহেরবানীতে তারা একদিন আমাদের বাংলাদেশ গড়ে দেবে। তাদের বঞ্চিত করা হলে স্বপ্নের বাংলাদেশ তারা গড়ে দেবে না। এজন্য আমরা চাই সব শিশুরা সুশিক্ষা পাবে। বস্তিতে বসবাসকারী কোনো হালাল রুজির পরিবারে জন্ম নেয়া শিশুও মেধার বলে আগামী দিনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও হতে পারে। আমরা সেই দেশ ও শিক্ষা গড়ে তুলতে চাই।
তিনি বলেন, আমাদের মায়েরা ঘরে, বাইরে ও কর্মস্থলে সব জায়গায় নিরাপত্তা পাবেন। শিশুদের রাস্তায় বাসচাপা দিয়ে মারার সুযোগ থাকবে না। কারণ সবাই হবে দায়িত্বশীল নাগরিক। কেউ অপরাধ করে বাঁচতে পারবে না। বাধ্য হবে দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সততার সাথে পালন করতে।
১২ ফেব্রুয়ারির ভোট বিষয়ে তিনি বলেন, এদিন দুটি ভোট, হ্যাঁ মানে আমরা ফ্যাসিবাদ চাই না। যারা চান না বাংলাদেশকে কোনো গোষ্ঠীর রাজ্যে পরিণত করা হোক, দেশ ১৮ কোটি মানুষের তারা হ্যাঁ ভোট দেবেন। আমরা সবাই হ্যাঁ ভোট দেবো, প্রতিবেশি ও মা-বোনদের, আপনজন ও বন্ধু-বান্ধবদের উৎসাহিত করব।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতি পরিবর্তন চায়। ৫৪ বছরের বস্তাপচা রাজনীতির পুনরাবৃত্তি যারা চায় না তারা ১২ তারিখ প্রথমে হ্যাঁ ভোট দেবে। হ্যাঁ মানে আজাদি, না মানে গোলামী। গুম ও খুন না চাইলে হ্যাঁ ভোট দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা জনগণের সেবক হবো, মালিক নয়। আমরা জনগণকে প্রজা বানিয়ে শোষক হবো না। জনগণের সম্পদের পাই পাই হিসাব তুলে দেয়া হবে। দেশের মালিক জনগণ।
যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যুবকদের বেকারভাতা না দিয়ে তাদের হাতকে দক্ষ করে তোলা হবে। আগামীর বাংলাদেশ পরিচালনার জন্য যুবকদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। যুবকদের নেতার আসনে বসানো হবে। তিনি বলেন, তোমাদের ওপর আমাদের আস্থা আছে।
পরিশেষে ঢাকা-১৭ আসনে জনসেবায় ডা. এসএম খালিদুজ্জামানকে ১২ তারিখে নির্বাচিত করার জন্য জনগণকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এসএম খালিদুজ্জামানের রক্তে সমাজসেবা জড়িত। তাকে নির্বাচিত করলে এ এলাকার উন্নয়নে সে নিজেকে বিলিয়ে দিবে ইনশাআল্লাহ।
ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচন কমিটির সমন্বয়ক ডা. আসাদুজ্জামান কাবুলের সভাপতিত্বে ও নির্বাচন কমিটির সদস্য সচীব মিজানুর রহমান খানের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুর রব, ইসলামি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সীবগা, এনসিপির মূখ্য সংগঠক, ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী, জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, বীর মুক্তিযোদ্বা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচন পরিচালক হেদায়েত উল্লাহ, এছাড়াও ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও মহানগরী নেতৃবৃন্দ।
কেকে/ এমএস